তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদনে নয়াদিল্লি সচেষ্ট: রাষ্ট্রপতিকে মোদি


 তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে চুক্তি সম্পাদনে নয়াদিল্লি সচেষ্ট রয়েছে বলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে অবহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

১১ মার্চ, রবিবার নয়াদিল্লিতে ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সের (আইএসএ) সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা জানান ভারতের সরকারপ্রধান। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো জয়নাল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য তিস্তার পানি প্রাপ্যতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। জবাবে মোদী বলেন, তার সরকার এই শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সবাইকে একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের জন্য আগ্রহী করছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাকে বোর্ডে রাখার চেষ্টা করছি।’

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিটি কয়েক বছর আগে ঢাকায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরকালে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। তবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে শেষ মুহূর্তে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর ভারত সরকার বারংবার চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানিত ও টেকসই পুনর্বাসন জন্য ভারতীয় সহায়তা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। জবাবে মোদি বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।

এটিকে একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে এ বিষয়ে সহায়তার ব্যাপারে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে মোদী দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আবদুল হামিদকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি বঙ্গভবনে সকল ধর্মের উৎসব উদযাপনের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে প্রচলিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসাও করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলনে, বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সর্ম্পক বজায় রাখার জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে এবং দিন দিন এ সর্ম্পক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করনে।

সংশ্লিষ্ট হাইকমশিনার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণও সে সময় উপস্থতি ছিলেন।