হামলায় ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ’র নিহতের দাবি হুতিদের


ইয়েমেনে বোমা হামলায় দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। ৪ ডিসেম্বর সোমবার হুতি পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেতার কেন্দ্র থেকে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়। তবে সালেহ’র রাজনৈতিক দল জেনারেল পিপলস কংগ্রেস (জিপিসি) তার মৃত্যুর এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ’র বাসভবনে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় সাবেক এই প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান হুসেইন আল হামিদির মৃত্যু হয়েছে। তবে হামিদির মৃত্যুর বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

এদিকে আলি আব্দুল্লাহ সালেহ’র মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে জিপিসি’র মুখপাত্র আদেল আল সিয়াঘি বলেন, সালেহ’র মৃত্যুর খবর সঠিক নয়। হুতি সমর্থিত সংবাদ মাধ্যমগুলো মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করছে।

তবে আব্দুল্লাহ সালেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি জিপিসি মুখপাত্র।

এদিকে ইরান সমর্থিত শিয়া হুথি মিলিশিয়াদের দাবি, তারা সালেহ’র সমর্থিত যোদ্ধাদের হটিয়ে তার বাসভবন সংলগ্ন আল মেসবাহি আবাসিক এলাকাসহ রাজধানী সানার অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সালেহ ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু গত শনিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়া ও হামলা বন্ধের শর্তে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে আলোচনার প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবের বিপরীতে সালেহকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেয় হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনার পরই বোমা হামলায় সালেহ’র মৃত্যুর খবর এলো।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে দেশ থেকে পালিয়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি। পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে ফের ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে একই বছরের ২৫ মার্চ থেকে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘সন্ত্রাস বিরোধী জোট’। এ জোটের হামলায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ হাজার ইয়েমেনি নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ, ভেঙে পড়েছে আইন-শৃঙ্খলা ও শাসন ব্যবস্থা। দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছেন দেশটির লাখো দরিদ্র মানুষ।