চোখের জলে ফুটবলকে বিদায় জানালেন বুফন


Buffon bye 1614983389

জিয়ানলুইজি বুফনের অশ্রুসিক্ত বিদায়।

 

কদিন আগেই জানিয়েছিলেন, রাশিয়া বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন ইতালির তারকা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। সোমবার রাতে বাছাইপর্বের প্লে-অফে সুইডেনের বিপক্ষে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। আজ্জুরিদের ছিটকে পড়ার দিন দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন বুফন। চোখের জলে ফুটবলকে বিদায় জানালেন সময়ের সেরা এই গোলরক্ষক।

প্রথম লেগে সুইডেনের মাঠে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় নিজেদের মাঠে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না ইতালির। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাঠে নেমেছিল বুফনবাহিনী। কিন্তু পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেও গোলের দেখা পায়নি ইতালি। ফলে খেলা গোল শূন্য ড্র হয়। দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ গোলে হেরে গেলে ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে আজ্জুরিরা। এরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ঘোষণা দেন বুফন।

সান সিরোতে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান টিভিকে দেওয়া সাক্ষাতকারের সময় কেঁদে ফেলেন বুফন। সাফল্যে মোড়ানো বর্ণিল ক্যারিয়ার শেষে দলের এমন বিপর্যয় মেনে নিতে কষ্ট হয় ৩৯ বছর বয়সী বুফনের, ‘আমার নিজের জন্য কোনো দুঃখ হচ্ছে না তবে ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য খারাপ লাগছে। আমরা সামাজিক পর্যায়ের কিছু একটা হাতছাড়া করেছি। এভাবে শেষ হওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘যারা ফুটবল খেলে তারা জানে ম্যাচটি আমাদের জন্য কতটা কঠিন ছিল। আমরা আমদের সেরাটা দিতে পারিনি। এটা হতাশাজনক। কারণ, আমরা এমন একটা জায়গায় ব্যর্থ হয়েছি সত্যিকারার্থেই যেটা দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বিদায়বেলায় আমার অন্য কোনো আক্ষেপ নেই। কেননা, সময় বয়ে চলে এবং বিদায় বলার এটাই সেরা সময়।’

ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান টিভিকে দেওয়া সাক্ষাতকারের সময় কেঁদে ফেলেন বুফন। ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান টিভিকে দেওয়া সাক্ষাতকারের সময় কেঁদে ফেলেন বুফন। 

 

তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ইতালি অন্য সময়ের মতোই ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানান বুফন, ‘এটা আমার জন্য লজ্জানক। কেননা আমার শেষ অফিশিয়াল ম্যাচের সঙ্গে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার তকমা লেগে থাকবে। কিন্তু ইতালিয়ান ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। আমাদের গর্ব-অহংকার, সক্ষমতা, আত্মনিবেদন রয়েছে এবং বাজে সময়ের পর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো পথ খুঁজে বের করার অতীত উদাহরণ রয়েছে। আমি এমন এক ইতালিকে রেখে যাচ্ছি যেটি জানে কীভাবে এর সম্মান রক্ষা করতে হয়।’

১৯৯৭ সালে ইতালি জাতীয় দলে অভিষেক হয় বুফনের। অভিষেকের পর থেকে নানা উত্তান পতনের মধ্য দিয়ে দেশটির সেরা গোলরক্ষকের আসনে বসেন তিনি। ইতালির হয়ে ১৭৫ ম্যাচ খেলার পর সোমবার ফুটবলকে বিদায় জানালেন বুফন। ২০০৬ বিশ্বকাপে বার্লিনে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে ফাইনালে জিতে বুফনের ইতালি। দলটির হয়ে ২০০২ ও ২০১২ ইউরোর ফাইনালেও ইতালি দলে ছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বুফন।

তারকা এই গোলরক্ষক ছাড়াও এদিন দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিফেন্ডার আন্দ্রে বার্জাগলি, মিডফিল্ডার ড্যানিয়েলে ডি রোসি ও জর্জিও চিলিয়েনি। এর মধ্যে ৩৬ বছর বয়সী বার্জাগলি ৭৩ ম্যাচ খেলেছেন ইতালির জার্সি গায়ে। আর ৩৪ বছর বয়সী রোসি ইতালির হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ ১১৭ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ২১টি। আর ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার চিলিয়েনি ৯৬ ম্যাচে অংশ নিয়ে করেছেন ৮ গোল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*