টানা ৭১ দিন মানুষের মাংস খেয়েছিলেন এই ব্যক্তি


podro-17-september-2017-1491813569

পেটে কতটা খিদে আর খাবারের অনিশ্চয়তা হলে একজন সভ্য মানুষের পক্ষে মানুষের মাংস খাওয়া সম্ভব! তাও আবার টানা ৭১ দিন। এ কোনো গল্প নয়, বাস্তবতা। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯৭২ সালে। আর এত বছর পর নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে এনে ‘ইন্টু দ্য মাউন্টেন’ নামের এক বই লিখেছেন পেদ্রো অ্যালগোর্টা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিমান দুর্ঘটনা। তুমুল তুষার ঝড়ে ঢেকে গিয়েছে আন্দিজ পর্বতমালা। তারই মাঝ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল ৪০ সিটের ছোট বিমানটা। গন্তব্য চিলে। বেশ কিছু সময় আগে উরুগুয়ে থেকে যখন প্ল্যানটি আকাশ ছুঁয়েছিল তখনও আবহাওয়া এতটা খারাপ ছিল না।

প্রথমে প্লেনে তুমুল ঝাঁকুনি। তার পরে হাওয়ার ধাক্কায় এদিক সেদিকের পাহাড়ে ধাক্কা মারতে মারতে প্লেনটা যখন শান্ত হল, তখন ৪০ জনের মধ্যে অনেকেই মৃত্যুর দেশে চলে গিয়েছেন। আর বাকিরা তখনও নিশ্চিত মৃত্যুর সঙ্গে জীবনের শেষ দান খেলতে ব্যস্ত। এদের মধ্যেই একজন ছিলেন পেদ্রো অ্যালগোর্টা।  

চারদিক শুধু থেঁতলে যাওয়া লাশের ভিড়। তুষার ঝড়ের দাপটে মারা গিয়েছেন আরও কয়েকজন। তখনও বেঁচে গুটিকয়েক যুবক। পেদ্রোও লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে। কিন্তু এবার! কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যায় সেই নিয়ে চলতে থাকল যুক্তি-তক্ক।

এদিকে ঠাণ্ডা হাওয়ার তেজ যেন বেড়েই চলেছে। ঠাণ্ডা না মারুক, খিদে ঠিক মারবেই মারবে। শেষ দানাটা দ্রুত মুখে পরে দিল লোকটা। খাবার শেষ। আর কেউ বাঁচতে পারবে না। খাবার ছাড়া এই ঠাণ্ডায় বাঁচা অসম্ভব। এদিকে পেদ্রো এক ঝলক ঘড়ির দিকে তাকালেন। ১৩ দিন কেটে গিয়েছে। তবু কারো দেখা নেই।

তখনই সবাই সিদ্ধান্ত নিল, বাঁচতে গেলে খেতে হবে। আর খাবার যখন নেই, তখন মৃত বন্ধুরাই একমাত্র ভরসা। প্রথমটায় বমি করে ফেলেছিলেন বেশিরভাগই। তার পর খিদের চোটে পাগলের মতো মানুষের মাংস খাওয়া শুরু করেছিলেন সবাই।

পেদ্রোর ভাগ্যে জুটেছিল এক মৃত বন্ধুর কাটা হাত আর থাই। তাই কামড়ে কামড়ে খাচ্ছিলেন পেদ্রো। মানুষের দাঁত কি মানুষের মাংস খেতে পারে? সেদিন পেরেছিল! বাঁচার তাগিদে সেদিন যেন ওই মানুষগুলো এক একটা হিংস্র দানবে পরিণত হয়েছিল।

কেমন ছিল সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা? ঘটনার প্রায় ২৫ বছর পর পেদ্রো একটি বই লিখেছিলেন, নাম দিয়েছিল ‘ইন্টু দ্য মাউন্টেন’। তাতে সেই সময়কার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছিলেন।

বইতে লিখেছেন, ‘আজও যখন সেই দিনটার দিকে ফিরে তাকাই মনে হয়, যদি ওই কাজটা না করতাম সেদিন, তাহলে বোধহয় আজকের দিনটা দেখতে পেতাম না।’

পেদ্রো নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে একবার বলেছিলেন, সেদিন কেউ এটা ভাবেনি যে তারা মানুষের মাংস খাচ্ছে। সবার মনে হয়েছিল বন্ধুরা মরে গিয়েও তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এর থেকে বেশি সেই মুহূর্তে আর কিছুই মনে আসছিল না। তুষারপাত আর মাইনাস সেন্টিগ্রেডের মাঝে বেঁচে থাকাটাই সে সময় শেষ কথা ছিল।