উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সংকট, বিচ্ছিন্ন হচ্ছে পরিবার


gulf-crisis-9-august-2017-90703010

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকটের কারণে কাতারের বহু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, অনেকের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং আরো অনেকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

২৯ বছর বয়সী কাতারি নাগরিক সারা জানান, দুবাইয়ে বিজনেস স্কুলে তার চূড়ান্ত বর্ষ শুরুর সময়টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর জোট তার দেশের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ফলে তাকে পড়াশুনার পাট চুকিয়ে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে।

সারার ভাষায়, আকস্মিকভাবে আমাদের জানানো হলো ক্লাশে যাওয়ার অনুমতি আর নেই। আমাদেরকে দোহায় ফিরে যেতে হবে। কেউ যখন কাউকে লেখাপড়ায় বাধা দেয়, তার মানে সে তার স্বপ্নগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা দেয়ায় এবং রিয়াদের আঞ্চলিক চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার অজুহাতে ৫ জুন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন কাতারকে বয়কট করার ঘোষণা দেয়।

এ ব্লকের চার দেশ দুই সপ্তাহের মধ্যে কাতারের সকল নাগরিককে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এছাড়া তারা কাতারে থাকা তাদের দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠায় এবং সেখানে থাকা তাদের নাগরিকদেরকে কাতার ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। তবে কাতার তাদের বিরুদ্ধে আনা আরব ব্লকের অভিযোগ প্রত্যাখান করে এর নিন্দা জানায়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক সংকটের কারণে সারার মতো আরো অনেকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। চার আরব দেশের অবরোধের কারণে কাতারের অনেক পরিবার বিচ্ছিন্নও হয়ে পড়েছে।

সারার মা সংযুক্ত আরব আমিরাতের, আর বাবা কাতারি। সারার মতো এ ধরণের পরিবারকে প্রচণ্ড সংকটের মুখে ঠেলে দিল উপসাগরীয় এ কূটনৈতিক উত্তাপ।