হবিগঞ্জে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে আটক মোস্তাকের রিমাণ্ডের আবেদন


mostak-khan-09082017-318113412

হবিগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোলায়মান এর আদালতে ৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে দুই কোটি টাকাসহ আটক মোস্তাক আহমেদ খাঁর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

৯ আগষ্ট বুধবার মোস্তাকের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক কামাল আহমেদ।

এর আগে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট মোস্তাককে সোমবার হবিগঞ্জ শহর থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে জামায়াত-বিএনপি জোটের রাজনৈতিক সহিংসতার সময় মোস্তাক আহমেদ খাঁর দুই কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পায় পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার হবিগঞ্জ থেকে মোস্তাককে গ্রেফতার করে সিআইডি।

জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী, বিস্ফোরকসহ ৫টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর থানায় মানি লন্ডারিং আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে মোস্তাক খাঁর বিরুদ্ধে আগেই মানি লন্ডারিং আইনে কয়েকটি মামলা রয়েছে। তিনি তুরস্কে অবস্থান করে জঙ্গিদের কাছে অর্থের হাত বদল ঘটিয়েছেন। ২০১৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোস্তাকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে তুরস্ক থেকে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আসে। এ সময়ে দেশবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনে টাকাগুলো বিনিয়োগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকেও তিনি অর্থ জঙ্গিদের হাতে পৌঁছিয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে হবিগঞ্জ সদর থানাধীন তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তার কাছ থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। এই দুই কোটি টাকা তিনি জঙ্গি অর্থায়নে কাজে লাগাতেন।

তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া যায়। নতুন করে মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় মোস্তাককে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও টাকা এসেছে কিনা কিংবা সে কোথায় কোথায় অর্থায়ন করেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।