হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করছে উত্তর কোরিয়া


505d1_হ্যাকিং_long-600x338

দক্ষিণ কোরিয়াসহ সারা বিশ্বের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটারে হ্যাকিংয়ের জন্য ক্রমবর্ধমান সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। বিগত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করার মাধ্যম হিসেবে হ্যাকিং প্রক্রিয়াকে বেছে নিয়েছে দেশটি। আর এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে অর্থ চুরির মাধ্যমে কোনো দেশকে নিঃস্ব করে দেয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম।

এমনকি চলতি বছরের মে মাসে বিশ্বের ১৫০টি দেশের কমপক্ষে তিন লাখ কম্পিউটারে ওয়ানাক্রাই নামের ‘র‍্যানসামওয়্যার’ হামলার ঘটে, সেখানেও উত্তর কোরিয়ার যোগসাজশ থাকার প্রযুক্তিগত প্রমাণ পেয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা-বিষয়ক গবেষকরা।

রয়টার্সে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, অতীতে উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন হ্যাকিং প্রচেষ্টায় সামাজিক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। এর মাধ্যমে সামরিক বা সরকারি তথ্য চুরি করতে সক্ষম হয়েছিল দেশটি।

দক্ষিণ কোরিয়ার ফিন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট (এফএসআই) এ তথ্যমতে, উত্তর কোরিয়ার এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন একটি গ্রুপ হলো লাজারুস। চলতি বছর এপ্রিলে রাশিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাব আরেকটি হ্যাকিং গ্রুপকে চিহ্নিত করে। ব্লুনরঅফ নামের এ গ্রুপটি লাজারুসের একটি অঙ্গসংগঠন। মূলত বিভিন্ন বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করে ব্লুনরঅফ নামের হ্যাকিং গ্রুপটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লাজারুসের যোগসাজশে গত বছর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করা হয়। ২০১৪ সালে সনির হলিউড স্টুডিও আক্রমণেও এরা জড়িত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র সনি হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তর কোরিয়াকে দোষারোপ করেছিল। সে সময় কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরির ঘটনায় পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা বলেছিলেন।

২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় সন্দেহভাজন সাইবার হামলাগুলো পর্যালোচনা করে আরেকটি হ্যাকার গ্রুপ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। অ্যান্ডারিয়েল নামের এ গ্রুপটিও লাজারুসের অঙ্গসংগঠন।

ব্লুনরঅফ ও অ্যান্ডারিয়েলের ভিত একই হলেও এদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। অ্যান্ডারিয়েলের লক্ষ্য মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলোয় হামলা চালানো। এক্ষেত্রে হ্যাকার গ্রুপটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য পরিকল্পিত পদ্ধতি ব্যবহার করে।

পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ কর্মসূচির বিকাশ বন্ধ করতে উত্তর কোরিয়ার ওপর বিশ্বনেতাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ-সংক্রান্ত চোখ রাঙানোকে উপেক্ষা করছে দেশটি। নগদ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে অনলাইন হ্যাকিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পিয়ংইয়ং যথেষ্ট তত্পর।