৯ হাজার ৩৯৭টি মাদরাসা ওয়েবপোর্টালের আওতায় আনা হয়েছে


befakk-500x350-500x330

মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ৯ হাজার ৩৯৭টি মাদ্রাসাকে ওয়েবপোর্টালের আওতায় আনা হয়েছে।

মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসার এ কে এম সাইফ উল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধিভূক্ত ৯ হাজার ৩৯৭ টি মাদরাসায় ওয়েবপোর্টাল খুলে দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়নে এবং কারিগরী সহায়তায় এই ওয়েবপোর্টালের কার্যক্রম চলছে।’

তিনি বলেন, ওয়েব সাইটটি পরিচালনা ও আপডেট করার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সকল মাদরাসার শিক্ষকদের ওয়েবপোর্টাল উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ওয়েব পোর্টাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালও ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য মাস্টার ট্রেইনার তৈরির লক্ষ্যে প্রায় ৪শ’ মাদরাসা শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সহযোগিতায় সংগৃহীত সকল তথ্য এ পোর্টালে প্রদান করা হয়েছে।

ওয়েবপোর্টালগুলোতে উন্নয়ন ও পরিমার্জনের জন্য ইতোমধ্যে মাদরাসা প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদরাসার কম্পিউটার শিক্ষকদেরকে ওয়েবপোর্টাল প্রশিক্ষণ উন্নয়নে প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে ওয়েবপোর্টাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরি করা হয়েছে।’

চলতি অর্থবছরে ওয়েবপোর্টাল প্রশিক্ষণের কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত হবে। এর মাধ্যমে সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষক মাদ্রাসা বোর্ডের কর্মকান্ডে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সকলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলভোগী উল্লেখ করে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৪ সালে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড জডিসি, দাখিল এবং আলিম পরীক্ষার পেপারলেস ফলাফল প্রকাশ করেছে। যা মাদরাসা শিক্ষার জন্য একটি যুগান্তকারী সফলতা।

তিনি বলেন, দেশের সকল জেলাপ্রশাসকের ইমেইলে পরীক্ষার্থীদের ছবিযুক্ত আইডিকার্ড বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড অনলাইনের মাধ্যমে দেশের সকলকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডই এ ধরনের উদ্যোগ প্রথম গ্রহণ করেছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য বর্তমান সরকারের সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে ৩৫টি মাদরাসাকে মডেল মাদ্রাসা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উন্নতমানের কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে ৯৫ টি মাদরাসার উন্নয়নের কাজ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাযিল ও কামিল মাদরাসায় ৫২টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের যুগ্মসচিব মো. মনজুর হোসেন বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তিতে মাদরাসা শিক্ষাকে অর্ন্তভূক্ত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৫জন মাদরাসার শিক্ষককে ৮ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন সবাই পকেটে একটি করে কম্পিউটার বয়ে বেড়ান নিজের অজান্তেই। দৈনন্দিনকাজে এটির ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষকরা যদি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন তবে তারা মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরও দক্ষ করে তুলতে পারবেন। এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের জন্য একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।