বুড়িমারী-ঢাকা রুটে পণ্য পরিবহনে সময় লাগে ৩০ ঘণ্টা!


images

দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বুড়িমারী স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকে আমদানি হয় কয়লা, কাঠ, পাথর, পশুখাদ্যসহ নানা ভোগ্যপণ্য। অন্যদিকে রফতানি হয় ইলিশ, মেলামাইনের তৈরি বাসন, ওষুধসহ কয়েকটি পণ্য। কিন্তু এ রুটে পণ্যবোঝাই গাড়ির গড় গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। এছাড়ার ভাঙাচোরা সড়ক, সেতু পারাপারে বিলম্ব ও রাজধানীতে ট্রাক প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে পণ্য পরিবহনে সময় লাগে ৩০ ঘণ্টা।

সম্প্রতি বুড়িমারী-ঢাকা বাণিজ্য করিডোরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রফতানি নিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) করিডোর পারফরম্যান্স মেজারমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং (সিপিএমএম) সমীক্ষায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্য পরিবহনে ধীরগতির কারণে একদিকে সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে ব্যয়ও। ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে বাণিজ্য ব্যয় অনেক বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ব্যয় (শুল্ক, ট্রেড লাইসেন্স ফি, চেম্বার ফি ব্যতীত) শুল্কহারের ৪৩ শতাংশ। আর বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ব্যয়ের পরিমাণ পণ্যের শুল্কহারের তুলনায় ১৮৬ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক বুড়িমারী-ঢাকা মহাসড়ক অতিক্রমে মোট সময় নেয় ২৯ দশমিক ৯৭ ঘণ্টা। এর মধ্যে আটটি স্থানে যাত্রাবিরতিতে সময় যায় ১১ দশমিক ১৫ ঘণ্টা। যাত্রাবিরতি ছাড়া গাড়ির গড় গতি ঘণ্টায় ২৪ দশমিক ১৮ কিলোমিটার। যাত্রাবিরতির সময় হিসাবে ধরলে ঘণ্টায় প্রতিটি ট্রাকের গড় গতি নেমে আসে ১৫ দশমিক ১৮ কিলোমিটারে।

ঢাকা-বুড়িমারী সড়কে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি রংপুর-বুড়িমারী অংশে। এ অংশের দৈর্ঘ্য ১৩৮ কিলোমিটার। পাশাপাশি ঢাকা-বুড়িমারী রুটে পণ্য পরিবহনে ধীরগতির আরেকটি বড় কারণ যমুনা সেতু। যমুনা সেতুতে এসে ২০ টনের কম পণ্যবোঝাই ট্রাক সেতু পারে। তবে সেতু দিয়ে ২০ টনের বেশি পণ্যবাহী যান চলাচলের অনুমতি নেই বেশি পণ্যবোঝাই গাড়িকে থেমে যেতে হয়। এজন্য সেতু পার হতে ছোট ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানের সাহায্য নিতে হয়। এতে সময় ব্যয় হয় ৩-৫ ঘণ্টা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রাপথের সময় কমে এলে পরিবহন ব্যয়ও কমিয়ে আনা সম্ভব। ঢাকা-বুড়িমারী রুটে পণ্যবোঝাই গাড়ির স্বাভাবিক গতি ঘণ্টায় অন্তত ৪০ কিলোমিটার হওয়ার কথা। তবে ভাঙাচোরা সড়ক, সেতু পারাপারে জটিলতা ও যানজটের কারণে অনেক স্থানে যানবাহন আটকে থাকছে। কমে আসছে গড় গতি। সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে এ রুটে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টায় মালামাল পরিবহন সম্ভব।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ট্রাক, ট্যাংক, লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, ‘পণ্যবাহী গাড়িগুলো সবসময় যে ধীরগতিতে চলে এমন নয়। ভালো রাস্তায় একটি পণ্যবোঝাই গাড়ি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে চলে। কিন্তু যেসব স্থানে রাস্তা খারাপ, সেখানে গাড়ি ধীরে চালাতে হয়।’ রাস্তা ভালো থাকলে ও কোথাও যানজট না থাকলে বুড়িমারী থেকে ঢাকায় এক ট্রাক পণ্য পরিবহন করতে সর্বোচ্চ ১২-১৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি।