একসেঞ্চারের সকল কর্মী ছাঁটাই, প্রতিষ্ঠান বন্ধ ৩০ নভেম্বর


8c7c54605b9edd40f9515ac1042f5d58-596e4353a7012

একসেঞ্চার বাংলাদেশে কর্মরত ৫৫৬ কর্মীকে ১৮ জুলাই মঙ্গলবার একযোগে ছাঁটাই নোটিশ পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সকল কর্মীর দেনা-পাওনা পরিশোধ করে ওইদিনই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ একসেঞ্চার অপারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুরুসহোতামা কাদাম্বু স্বাক্ষরিত ই-মেইলে সকল কর্মীদের এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের পর প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের সংগঠন একসেঞ্চার এমপ্লয়ী ইউনিউয়নের পক্ষ থেকে ১৯ জুলাই বুধবার থেকে কর্মীরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আহমেদ  বলেন, ‘বাংলাদেশে হঠাৎ সিদ্ধান্তে আইটি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আর এখাতে বিনিয়োগ করতে চাইবে না। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই একসেঞ্চারের বন্ধের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে কয়েকজন কর্মী ছাঁটাই নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে একসেঞ্চার এমপ্লয়ী ইউনিউয়ন গঠন করে কর্মীরা। তৎকালীন কর্মী ছাঁটাই সংক্রান্ত কথা বলতে গিয়ে একসেঞ্চার এমপ্লয়ী ইউনিউয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আহমেদ বলেছিলেন, ‘এই একসেঞ্চার বাংলাদেশে ছয়শত কর্মী কর্মরত আছেন, যাদের মধ্যে চার শতাধিক আমাদের এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সদস্য। এই প্রতিষ্ঠান যদি এখন তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় তাহলে আমাদের কি হবে, আমরা কোথায় যাবো?’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের অধিনস্ত আইটি ডিভিশনকে আলাদা করে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি গ্রামীণফোন আইটি (জিপিআইটি) যাত্রা শুরু করে। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই জিপিআইটির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার অধিগ্রহণ করতে চুক্তি স্বাক্ষর করে বিশ্বখ্যাত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক, প্রযুক্তি সেবা ও আউটসোর্সিং কোম্পানি একসেঞ্চার বি.ভি। ১ আগস্ট জিপিআইটির ৫১ শতাংশ শেয়ার একসেঞ্চার বি.ভি এর কাছে হস্তান্তর অনুমোদন করে শেয়ারহোল্ডাররা

চূড়ান্ত ভাবে ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট এই প্রতিষ্ঠানটির ৫১ শতাংশ মালিকানা কিনে নেয় একসেঞ্চার। তৎকালীন প্রতিষ্ঠানটিতে চার শতাধিক কর্মী ছিল। বর্তমানে এ সংখ্যা ৬ শতাধিক। আর বিশ্বের ১২০টি দেশে একসেঞ্চারের বিভিন্ন অফিসে প্রায় ৩ লক্ষ কর্মী কর্মরত আছেন।