বিচারক সংকটে দেশের উচ্চ আদালত


image-33700

গত সাত মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের তিনজন বিচারক বিদায় নিলেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ছয় জন বিচারপতির বিপরীতে ১৩ হাজার মামলা বিচারাধীন আছে। বিচারক সংকটে সময়মতো বিচারকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় মামলার স্তূপ জমে যাচ্ছে। তবে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

গত ১ জানুয়ারি ইন্তেকাল করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা, গত ১৪ মার্চ অবসরে যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম আর সর্বশেষ ৭ জুলাই অবসরে যান বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার ও বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা ১১-তে উন্নীত করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আপিল বিভাগে এখনও পাঁচজন বিচারক নেওয়ার সুযোগ আছে। সাধারণত হাইকোর্টের সিনিয়র বিচারকরাই আপিল বিভাগে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। হাইকোর্ট বিভাগে এখন ৮৬ জন বিচারকের বিপরীতে চার লাখের বেশি মামলা বিচারধীন রয়েছে। আর ৮৬ জন বিচারকের মধ্যে তিনজন বিচারক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ রয়েছেন আরও চারজন।

এ ছাড়াও গত ২ জানুয়ারি অবসরে গেছেন বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ, ২৩ এপ্রিল বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও ২৯ মে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী। আর আগামী ৬ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন বিচারপতি মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা ও ৩০ ডিসেম্বরে বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক। এ অবস্থায় আপিল বিভাগে পাঁচজনকে নিয়োগ দিলে হাইকোর্টও বিচারক সংকটে পড়বে।

প্রধান বিচারপতির পরামর্শ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির কার্যালয় থেকে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আটজনের তালিকা করে আইন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। তালিকাটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।  ‘রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে শিগগিরই বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে’ বলেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।