ভারতের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হোল্ডার


অ্যান্টিগোয়ায় রোমাঞ্চকর চতুর্থ ওয়ানডেতে ভারতকে ১১ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ে ফলে সিরিজে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে জেসন হোল্ডারের দল। আর তা সম্ভব হয়েছে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক হোল্ডারের নৈপুণ্যেই। ফলে আড়াই বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল ক্যারিবিয়রা।

প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর টানা দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত। আর এই ম্যাচ জিতেও বর্তমানে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অভিজ্ঞ ফিনিশার ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও হার মেনেছেন প্রতিপক্ষের অধিনায়কের কাছে। এদিকে আড়াই বছর আগে ভারতকে শেষবারের মতো ওয়ানডেতে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে দুই দল খেলেছে আট ওয়ানডে। যার মধ্যে তিনটিতে কোনো ফল আসেনি। ভারত জিতেছে বাকি পাঁচটিতে।

লক্ষ্য ছোট হলেও ভারত সেটি পার করতে পারেনি। এক প্রান্ত আজিঙ্কা রাহানে (৬০) আগলে রাখলেও অপর প্রান্তে তখন আসা-যাওয়ার খেলা। দুই অংকে যেতে পারেননি শিখর ধাওয়ান (৫), বিরাট কোহলি (৩), দীনেশ কার্তিকের (২) মতো ব্যাটসম্যানরা। ৪৭ রানেই ভারত হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট।

২২ রানে জেসন মোহাম্মদের হাতে জীবন পেয়ে রাহানে ধোনির সঙ্গে মিলে ৫৪ রানের চমৎকার এক জুটি গড়েন। রাহানেকে বিদায় করেন লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। স্বাগতিকদের চমৎকার বোলিংয়ে ৫ উইকেট হাতে নিয়েও শেষ ৫ ওভারে ৩১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি ভারত। একটি করে ছক্কা-চারে ২১ বলে ২০ রান করে পান্ডিয়াকে বোল্ড করে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন হোল্ডার। রবীন্দ্র জাদেজাকেও বিদায় করে দেন ক্যারিবীয়ান অধিনায়ক।

অর্ধশতক করা ধোনি কেসরিক উইলিয়ামসকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন। ১০৮ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ধোনি। ধোনিকে আউট করে ওয়ানডেতে নিজের প্রথম উইকেট নেন উইলিয়ামস। শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ১৯ রান, হাতে ছিল চার উইকেট। সেটাকে অসম্ভব বানিয়ে ফেলেন হোল্ডার। তাদের দাপুটে বোলিংয়ে শেষ চার উইকেটের পতন হয় মাত্র পাঁচ রানে। শেষ ওভারে উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ শামিকে ফিরিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেওয়ার সঙ্গে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেন হোল্ডার (৫/২৭)। দারুণ বোলিংয়ের জন্য তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৮৯ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই অঙ্কে পৌঁছেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের সবাই। কিন্তু ৪০ পর্যন্ত যেতে পারেননি কেউই। রানের গতি বাড়ানোর মুহূর্তে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে দলটি। উদ্বোধনী জুটির পর পঞ্চাশ পর্যন্ত যেতে পারেনি আর কোনো জুটি। শেষ ৮৩ বলে আসেনি একটিও বাউন্ডারি। তারপরও স্কোর বোর্ড যে রান উঠেছে সেটাকেই টপকাতে পারেনি ভারতের মতো দল।

আগামী বৃহস্পতিবার কিংস্টনে হবে পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*