শেখার উদ্দেশ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে এইচপি দল


শনিবার (১ জুলাই) রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ছে বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দল। শনিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে ১৬ সদস্যের এইচপি দলের। ১৬ সদস্যবিশিষ্ট এই দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন কুমার দাস।

দলে জায়গা হয়েছে এনামুল হক বিজয়, লিটন কুমার দাস, আবু হায়দার রনি, জুবায়ের হোসেন লিখনদের মতো ক্রিকেটার; যারা এই মুহূর্তে জাতীয় দলের বাইরে অবস্থান করছেন। মূলত তাদেরকে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে ফেরাতে এই সুযোগ করে দিচ্ছেন নির্বাচকরা। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন রাজ্য দলের বিপক্ষে পাঁচটি ৫০ ওভারের ম্যাচ ও একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলবেন লিটন-বিজয়-রনিরা। ম্যাচগুলো হবে মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ড মাঠে।

এর পাশাপাশি মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দুই নম্বর মাঠে ও দুই নম্বর নেটে অনুশীলন করবে এইচপি স্কোয়াড। ১৬ সদস্যের এই দলে শেষ মুহূর্তে ডাক পেয়েছেন পেসার হান্টের আবিষ্কার ইবাদত হোসেন চৌধুরী। দলে রয়েছেন দুই লেগস্পিনার- জুবায়ের হোসেন লিখন ও তানবীর হায়দার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত ২৯ সদস্যের স্কোয়াডের মধ্য থেকে এইচপি দলে আছেন লিটন কুমার দাস, এনামুল হক বিজয়, আবুল হাসান রাজু, তানবীর হায়দার ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

এইচপি দলের অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু হবে ওয়ানডে দিয়ে। ৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে লিটন-বিজয়রা। পরের চার ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ৬, ৭, ৯ ও ১১ জুলাই। আগামী ১৩ জুলাই মাঠে গড়াবে তিন দিনের একমাত্র ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে আলাপকালে এনামুল হক বিজয়, আবু হায়দার রনি, নাজমুল হাসান শান্ত, জুবায়ের হাসান এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন জানিয়েছেন তাদের ভাবনার কথা।

এনামুল হক বিজয়: ঘরোয়া ক্রিকেটে যে ম্যাচগুলো খেলেছি সেগুলো বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। ওই সাহস নিয়ে যাচ্ছি। আমি জানি না ওদের দল কেমন হবে, উইকেট কেমন হবে। আত্মবিশ্বাস আছে। বাড়তি সাহস আছে। অনেকদিন ধরে হার্ডওয়ার্ক করছি। আশা করি ভালো কিছু করার। তবে এবারের যাত্রাটা আমার জন্য অবশ্যই রোমাঞ্চকর। জাতীয় দলের ক্যাম্পে আছি। এইচপি ট্যুরে যাচ্ছি। অনেকদিন পর ট্যুরে যাচ্ছি। অবশ্যই নিজের মধ্যে উত্তেজনা কাজ করছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সেই সফরগুলোর মতো মনে হচ্ছে। আমার কাছে মনে হয় খুব আত্মবিশ্বাসী আমি। স্যাররা বিশ্বাসী আমার উপর। এজন্যই সুযোগ পেয়েছি। তাদের আশা পূরণ করাটা মূল লক্ষ্য হবে।

আবু হায়দার রনি: বাইরে আমাদের খুব একটা ট্যুর করা হয় না। তাই অস্ট্রেলিয়া সফর আমাদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা দেবে। অস্ট্রেলিয়া থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসব, যেটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছি, এটা আমাকে অনেক উৎসাহ দেয়। টপক্লাস একটা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট পেয়েছি এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। চেষ্টা করবো লিগে যেভাবে উইকেট পেয়েছি ওটা ধরে রাখার জন্য। আগে হয়তো নতুন বলে নিয়ন্ত্রণ কম ছিল। এখন চেষ্টা করছি নতুন বলেও সুইং করানোর, দলকে দ্রুত ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার। প্রিমিয়ার লিগের প্রায় সব ম্যাচে নতুন বলে দ্রুত ব্রেক থ্রু পেয়েছি। নতুন বলে একটা উইকেট পেয়ে গেলে পুরনো বলে এমনিই দু’য়েকটা উইকেট পাওয়া সম্ভব।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: যেহেতেু জাতীয় দলের স্কোয়াডে আছি দায়িত্ব বেড়ে গেছে। পারফর্ম করাটা জরুরি হয়ে গেছে। ভালো কিছু হলে হয়তো সামনের সিরিজগুলোতে দলে থাকতে পারব। অলরাউন্ডার হওয়ায় দলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ বেশি। এজন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। সুযোগ পেলে অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। অস্ট্রেলিয়ার উইকেট পেস বোলারদের জন্য সহায়ক হবে। চেষ্টা থাকবে সেই কন্ডিশন কাজে লাগানোর।

নাজমুল হাসান শান্ত: অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেললে অবশ্যই আমাদের ভালো অভিজ্ঞতা হবে। পরে যখন ওখানে খেলবো তখন অবশ্যই সুবিধা পাবো। এটা অনেক বড় একটা সুযোগ। চেষ্টা করব এখান থেকে যতটা বেশি শিখে নেওয়া যায়। উইকেট হয়তো একটু বাউন্সি হবে, একটু ফাস্ট হবে। আমি যতক্ষণ ব্যাটিং করি সবসময় চেষ্টা থাকে লম্বা ইনিংস খেলার। এ রকম সুযোগ আসে তাহলে একই পরিকল্পনা থাকবে। যত বেশি সময় উইকেটে থাকা যায়। যত লম্বা সময় ধরে ব্যাট করা যায়। ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার চেষ্টা করব।

জুবায়ের হোসেন লিখন: বাইরে যত ট্যুর করেছি আল্লাহর রহমতে ভালো করেছি। চেষ্টা থাকবে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার। বাইরের দলগুলোর সাথে আমার বোলিং ভালো ছিল। আগে যা করেছি তার চেয়ে ভালো কিছু করার লক্ষ্য থাকবে। অস্ট্রেলিয়া সফর আমাদের জন্য খুব ভালো একটা প্ল্যাটফর্ম। এখানে ভালো করতে পারলেই জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ থাকবে। ক্যাম্পে ঢোকাও সহজ হবে। চেষ্টা থাকবে এখানে ভালো কিছু করার। দলে দুইজন লেগ স্পিনার। এটা নিয়ে ভাবছি না। নিজে কীভাবে ভালো করায় যায় সেটা নিয়েই ভাবছি। আগেরবার যখন ‘এ’ দলের হয়ে গিয়েছিলাম আমরা একটা ম্যাচ জিতেছিলাম। ওই ম্যাচে আমি আট বলে চার উইকেট নিয়েছিলাম। তাই চেষ্টা থাকবে এমন কিছু করা যাতে দলের ভালো হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*