সাঈদীকে বাঁচাতে পেরেছি, এতেই খুশি: খন্দকার মাহবুব


 

সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব।

 

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের করা আপিল খারিজ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

১৫ মে সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদেরেকে বলেন, ‘আপিল বিভাগে আমরা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। প্রমাণ-দলিলাদি দিয়ে বলেছিলাম, ঘটনার সময় তিনি পিরোজপুরে ছিলেন না। এবং এই রায়ে আপিল বিভাগের এক বিচারপতি তাকে খালাস দিয়েছিলেন। একাত্তরে নিহত পিরোজপুরের বিশা বালি হত্যার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার ভাইকে হত্যায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জড়িত ছিলেন না। এর পর তাকে তুলে নিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ সব বিষয় আমরা আদালতে উপস্থাপন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া আরও একটি বিষয় আমরা আদালতে বলেছি। রাষ্ট্রপক্ষ যে রিভিউ করেছে, তা সঠিক হয়নি। তামাদি আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে তাদের রিভিউ বাতিলের আবেদন করেছিলাম। আপিল বিভাগ দুটি রিভিউ শুনেছেন। শুনানি শেষে তা খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল থাকল।’

তবে সবশেষে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ রায় আমাদের মেনে নিতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারো আপিল বিভাগে এসে সাজা কমেনি। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমেছে। তাকে মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে বাঁচাতে পেরেছি, এতেই খুশি।’

এর আগে ১৫ মে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন দিয়ে শুনানি শুরু হয়। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে শুনানি শেষে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ বহাল রাখা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর করা আবেদনের দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারপতির এই বেঞ্চ।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

গত ১৪ মে রোববার সাঈদীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি শুরু করেন। পরে মামলার কার্যক্রম ১৫ মে সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠিত ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন।

২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রেপক্ষের আবেদনের পাঁচ দিন পর ১৭ জানুয়ারি শাস্তি থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*