জিয়া চ্যারিটেবল মামলার আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন খালেদার


 

আদালত চত্বরে খালেদা জিয়া।

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

১৫ মে সোমবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার পক্ষে আদালত পরিবর্তনের এ আবেদন করেন।

এ বিষয়ে জাকির হোসেন ভূইয়া বলেন, ‘ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই আদালতে এই মামলাটির ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও আমাদের সংশয় রয়েছে। এ কারণেই আমরা আবেদনটি করেছি।’

তিনি আরও জানান, আবেদনটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে, এই আবেদনটি আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে গত ১৩ এপ্রিল খারিজ হয়েছিল। সেই খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এই রিভিশন আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ।

ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

মামলার বিচারকার্যে ইতোমধ্যে দুদকের পক্ষের ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২৫ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*