ভারতের প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের আট বিচারপতিকে ‘কারাদণ্ড’ দিলেন সেই বিচারক


cs_karnan

কলকাতা হাইকোর্টের ‘বিদ্রোহকারী’ বিচারপতি সি এস কারনান দেশটির প্রধান বিচারপতি জে এস খেহারসহ সুপ্রিম কোর্টের মোট আট বিচারপতিকে পাঁচ বছরের ‘সশ্রম কারাদণ্ড’ দিয়েছেন।  আদেশে বলা হয়েছে, এসব বিচারপতিরা জাতিগত বৈষম্য, ষড়যন্ত্র, হয়রানি এবং আদালত অবমাননা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

গত ১ মে বিচারপতি কারনানের মানসিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। যা নিয়ে রীতিমত হইচই শুরু হয়। পরে গত সপ্তাহে বিচারপতি কারনানের মানসিক সুস্থতা পরীক্ষার জন্য তাঁর বাড়িতে পুলিশ ও বিশেষ চিকিত্সক দল গেলে তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন। এবার নিজের বাসায় করা বিশেষ আদালতে তিনি প্রধান বিচারপতি ও আরো সাত বিচারপতিকে কারাদণ্ড দিলেন।

গত ২৩ জানুয়ারি থেকে বিচারপতিদের এই সংকটের শুরু। বিচারপতি কারনান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা এক চিঠিতে ২০ জন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও ৩ জন জ্যেষ্ঠ আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন।

বিষয়টি আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি কারনানকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য দুই দফায় সুপ্রিম কোর্টে তলব করেন। কিন্তু বিচারপতি কারনান তাকে কর্নপাত করেন নি। এরপর ভারকেতর অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি এ দিন ফের বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার পক্ষে জোর মত দেন।

সুপ্রিম কোর্টের ওই নোটিশের (বক্তব্যের ব্যাখা দেওয়ার আদেশ) প্রেক্ষিতে বিচারপতি কারনান সুপ্রিম কোর্টকে পাল্টা চিঠি পাঠান। রেজিস্ট্রার জেনারেলকে লেখা সেই চিঠিতে বিচারপতি কারনান নিজের বিরুদ্ধে অবিচার তথা বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দেওয়ার যে নির্দেশ তাঁকে দেওয়া হয়েছে, সে প্রসঙ্গে বিচারপতি কারনান লেখেন, তাঁকে সময় দেওয়া হয়নি।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কারনান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও মাদ্রাজ হাইকোর্টের কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। সেই বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার জন্যও বিচারপতি কারনান প্রধানমন্ত্রীকে লেখেন। এই চিঠিকে বিচারবিভাগের অবমাননা হিসেবে ধরা হবে না কেন, সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে সে প্রশ্নের জবাব দিতে বিচারপতি কারনানকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়। বিচারপতি কারনান কিন্তু এ দিন হাজিরা দেননি।

কিন্তু দুই দফা তারিখ দেওয়ার পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় শুক্রবার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে প্রধান বিচারপতির নের্তত্বে সুপ্রিম কোর্টের সাত সদস্যের ওই বেঞ্চ।। কলকাতার পুলিশ যখন তাকে গ্রেফতার করতে যায়, তখন তিনি সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে ‘অন্যায়’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা দিয়ে সাথে সাথে তা স্থগিত করে দেন এবং তৎক্ষনাত নিজের বাড়িতেই এক বিশেষ আদালত বসিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে এসব আদেশ দেন।  যদিও তাঁর কাছ থেকে সব বিচারিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা আগেই নিয়ে নিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত, তাই তার জারি করা নির্দেশের কোনও আইনি অনুমোদন নেই।