বদলে যাচ্ছে ষড়ঋতুর হিসাব


1493164530_4

বাংলাদেশ পরিচিত ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে। ছয়টি আলাদা আলাদা ঋতুর আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। কিন্তু দিন দিন আর ছয়টি ঋতু স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না। যখন আবহাওয়া যেরকম থাকার কথা, সেরকমটা থাকছে না।

সারা দেশে গত কয়েকদিনের আবহাওয়া আবারও এ আলোচনাটিকে সামনে এনেছে। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে এখন গ্রীষ্মকাল। এ সময় আবহাওয়া থাকার কথা উত্তপ্ত, খাল বিলে পানি থাকার কথা নয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের আবহাওয়ার অবস্থা পুরোটাই বিপরীত। গ্রীষ্মে মাঝে মধ্যে বৃষ্টির দেখা মিললেও গত কয়েকদিন সারা দেশে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গ্রীষ্মে এত বৃষ্টি দেখে মনে হতে পারে এখন বুঝি বর্ষাকাল চলছে। টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহরও তলিয়ে গেছে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন মানুষজন। বর্ষার ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত দেখা গেল হাওড়াঞ্চল সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনায়। কৃষকের সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে প্রাণিসম্পদ।

আবহাওয়া অফিস যে তথ্য দিচ্ছে সেখানেও গ্রীষ্ম আর গ্রীষ্ম হয়ে নেই। বর্ষার রূপ ধারণ করেছে। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, গত ৩৫ বছরের মধ্যে এপ্রিলে এত বৃষ্টিপাত আর হয়নি। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টপাতের পরিমাণ থাকে ৪ হাজার ৫৩ মিলিমিটার। মাস এখনও শেষ হয়নি। এরই মাঝে ৮ হাজার ৯০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে আবহাওয়া অফিস। বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ বলয় অধিক দুর্বল থাকায় পূবালী ও পশ্চিমা লঘুচাপের সক্রিয়তাকে অতি বর্ষণের কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। কারণ যাই হোক, বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি। সারা পৃথিবীতেই জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিরাট ইস্যু। বাঙালীর ষড়ঋতুতেও এর প্রভাব পড়েছে। কোনটিই নিজের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পারছে না। সময় মতো শুরু এবং শেষ হচ্ছে না। দুই মাসের মেয়াদও কমছে। বাড়ছে। সব মিলিয়ে বিরাট ওলট পালট। বাঙালীর ষড়ঋতুর হিসেব মেলানো যাচ্ছে না।