সরকার দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: রুহুল কবির রিজভী


73227

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে সরকার বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

৮ এপ্রিল শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে আরও বেশি উন্মোচিত এবং দুর্বল করেছে সরকার। জনগণকে অন্ধকারে রেখেই এসব চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে অনির্বাচিত শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতাকে পোক্ত করা। কিন্তু এসব চুক্তি করে সরকার বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’

তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয়ে এতদিন প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী হীনভাবে চিন্তা করে সেই প্রতিরক্ষা চুক্তি করবেন না। কিন্তু গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি- ২২টি চুক্তিসহ সমঝোতা সই করা হয়েছে। অথচ একটাও জনগণকে জানানো হয়নি। এটা জনগণকে তাচ্ছিল্য করার শামিল। এসব চুক্তি দেশ ও জনবিরোধী। আমরা এসব চুক্তির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিস্তা চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘জনগণের বাঁচা-মরার প্রশ্ন তিস্তা চুক্তি নিয়ে সরকার কথা বলছে না। কারণ কথা বললে তাদের বন্ধুরা বিরক্ত হবে, মনক্ষুণ্ন হবে। কিন্তু সেখানে আমাদের নিরাপত্তাকে আরও উন্মোচন করা হলো।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে এ-ও দেখেছি, সঞ্চালকের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর হাসি আর থামছে না। বরং তিনি এমন একটি কাজ করেছেন, যখন গোটা জাতি স্তব্ধ-নির্বাক, স্বীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার পথে, তিনি তখন তার সহযোগীদের সন্তুষ্ট করাতে এ হাসি হাসছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে যে কান্না ঝরে পড়ছে, সেটি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন না। কীভাবে একটি দেশকে ক্রমান্বয়ে আরেকটি দেশের নিরাপত্তাকাঠামোতে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাকে দুর্বল করলেন।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন সোনালি পর্বে। তিনি ঠিকই বলেছেন, কারণ বাংলাদেশে থেকে যা পেয়েছেন, সেটি ছিল তাদেরও কল্পনাতীত। কোনো জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকলে এতটা পেতেন না।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী সরকার থাকলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকত, বৈদেশিক, কূটনীতিক ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকত, কিন্তু কোনো দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অন্য দেশের হাতে তুলে দিত না। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটি একটি অমানিসার পর্ব, ধূসর পর্ব।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে ২২টি চুক্তি-সমঝোতা স্বাক্ষরের খবরের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি আয়োজিত জরুরি এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।