টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে তৃপ্ত মাশরাফি


Image result for মাশরাফি

 

২০০৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে অভিষেক হয় মাশরাফি বিন মুর্তজার। দশ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি দিয়ে। এই সময়ের মধ্যে দেশকে উপহার দিয়েছেন বড় কিছু জয়, এনে দিয়েছেন দারুণ সব সাফল্য। তাইতো নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে তৃপ্ত মাশরাফি নিজেও।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শেষে জাতীয় দল দেশে ফিরেছে শুক্রবার। শ্রীলঙ্কা সফর শেষ দেশে ফিরে বিমানবন্দরে মাশরাফি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোন অতৃপ্তি নেই। বরং আমি মনে করি আমি এবং আমার পরিবারের জন্য বিষয়টি গর্বের যে আমি বাংলাদেশের জন্য ১০ বছর টি-টোয়েন্টি খেলতে পেরেছি। সেজন্য আমি গর্ববোধ করি। আমি নিশ্চিত আমার আত্নীয় স্বজন ও পরিবারের জন্যও এটি গর্বের।’

দশ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সবমিলিয়ে ৫৪টি ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি। ৫৪ টি-টোয়েন্টিতে ডানহাতি এই পেসার নিয়েছেন ৪১ উইকেট, ব্যাট হাতে তুলেছেন ৩৭৭ রান। সর্বশেষ ২০১৬ সালে তার নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। মাশরাফির হাত ধরে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষেও জয় পেয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিততে না পারলে তিনটি সিরিজের ড্র করেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। অতীতের তুলনায় লঙ্কানদের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের সফলতম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচেই লড়াই করেছেন সাকিব-মুশফিক-তামিমরা। প্রতিপক্ষকে ছুঁড়ে দিয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। জয়ের দেখা পেতেও তাই বেগ পেতে হয়েছে লঙ্কানদের।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জয়ের খুব কাছে গিয়েও অল্পের জন্য সিরিজ হাতছাড়া করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট এবং নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে তৃপ্ত হলেও অল্পের জন্য ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ায় আক্ষেপের দেখা মিললো মাশরাফির কণ্ঠেও।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এই বিদায়ী অধিনায়ক বলেন, ‘সিরিজে আমার কাছে একটি অপ্রাপ্তি আছে সেটা হলো ওয়ানডে সিরিজটা আমাদের জেতা উচিত ছিল। এছাড়া বাদবাকি সবকিছু ভাল ছিলো। এই প্রথমবারের মতো আমরা শ্রীলঙ্কায় এত ভাল একটি সিরিজ খেললাম। বিশেষ করে টেস্টে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও আমরা সিরিজে সমতা আনতে পেরেছি। তবে ওয়ানেডেটা আমাদের ২-০তে জেতা উচিত ছিল।’

শ্রীলঙ্কা সিরিজের দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট মাশরাফি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি টি-টোয়েন্টিতে ওরা শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। এমন শক্তিশালী একটি দলকেও আমরা পিছিয়ে থেকে শেষ ম্যাচে হারিয়ে সিরিজে সমতা এনেছি। ওদের দলে বেশ কয়েকজন টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞ খেললেও তাদের হারিয়ে সিরিজে ফিরেছি। আমার কাছে মনে হয় আমরা একটি ভ‍ালো সিরিজ শেষ করে ফিরেছি। এটা একটা নতুন ধরণের মাইলফলক বলতে পারেন। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে তিনটা ফরম্যাটে ড্র করে এসেছি। আশ‍া করি আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবো।’

মাশরাফিদের পরবর্তী লক্ষ্য ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সেখানে ভালো করার ব্যাপারে প্রত্যয়ী মাশরাফি, আমি আগেই বলেছি ওয়ানডেতে আমরা ২-০তে জিতলে ভালো হত। এখানে যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো যেন আর না হয় সেদিকে লক্ষ্য থাকবে। আয়ারল্যান্ড ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যেহেতু ভিন্ন উইকেটে খেলা হবে সেখানে পরিকল্পনা করে নামবো এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করবো।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*