শ্রীলঙ্কার ‘অপয়া’ ভেন্যুতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি মিশন শুরু


 

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ সমতায় শেষ হয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে এটা বাংলাদেশের জন্য যেমন অনেকটাই স্বস্তির, অপরদিকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে আছে শ্রীলঙ্কা। পরিসংখ্যান বলছে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ভেন্যু শ্রীলঙ্কার জন্য এক কথায় “অপয়া”

শ্রীলঙ্কার ‘হোম অব ক্রিকেট’ কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধার এই স্টেডিয়ামে ২০০৯ থেকে নিয়মিত টি-টোয়েন্টি সংস্করণে খেলছে শ্রীলঙ্কা। তবে সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখের নয়। এখন পর্যন্ত এই মাঠে ১১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে স্বাগতিকরা। যার মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। এখানে নিজেদের শেষ ছয় ম্যাচেই টানা হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। আর এখানেই তারা মুখোমুখি হচ্ছে চনমনে বাংলাদেশের।

মঙ্গলবার দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ওয়ানডে  সিরিজ জয়ের আক্ষেপ ঘোচাতে মাঠে নামবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। অপরদিকে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য থাকবে অন্তত একটি সিরিজ জয়।

তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতাও খুব একটা ভালো নয়। এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলে চারটিতে হেরেছে বাংলাদেশ, জিতেছে মাত্র একটিতে। ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে দুই দলের দেখায় বাংলাদেশ হেরেছিল ৬৪ রানে। ২০১৩ সালে পালেকেল্লেতে স্বাগতিকরা জিতেছিল ১৭ রানে। ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে দুটি ম্যাচই মাশরাফির দল হেরেছিল শেষ বলে।

২০১৬ সালে এশিয়া কাপের শ্রীলঙ্কাকে ২৩ রানে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিলো বাংলাদেশ দল। আর ওই জয়ের সুবাদেই এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলকে অনেকটাই ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সহায়তা করছে।

তবে অতীতের থেকে শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি দল বেশি ভয়ংকর। এই ফরম্যাটে সর্বশেষ দুটি সিরিজই জিতেছে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া সফরে শক্তিশালী দুই দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই সিরিজ জিতে নেয় লঙ্কানরা। তাই এই ফরম্যাটে বেশ এগিয়ে থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নামবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা তো ঘোষণাই দিয়ে দিয়েছেন, টি-টোয়েন্টিতে কিন্তু আমরা অন্য দল, দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এসেছি তাদের মাটিতে। তবে ইতিহাস তাদের পক্ষে সাক্ষী দিচ্ছে না। আর সেই ইতিহাসে ভর করেই বাংলাদেশ দল ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারে।

বৃহস্পতিবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি হবে এই একই ভেন্যুতে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*