খালেদা জিয়ার ১১ মামলার চার্জ শুনানি পিছিয়ে ১০ এপ্রিল


khaladazia-pic

 

রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতায় দায়ের করা ১১ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া’র অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন পিছিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।

২৮ মার্চ মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত তা মঞ্জুর করে শুনানির দিন পিছিয়ে দেন।

মঙ্গলবার আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরার তারিখ থাকলেও অসুস্থতার কারণে আদালতে যেতে পারেননি। ওই সময় খালেদা জিয়ার চোখের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। পড়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত তা মঞ্জুর করে শুনানির দিন পিছিয়ে ১০ এপ্রিল ধার্য করেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মিরপুরের দারুসসালাম থানায় নাশকতার আটটি, রাষ্ট্রদ্রোহের একটি ও যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরক ও হত্যা আইনের দুটি।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় খালেদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে।’

ওই বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাবের পরিচয় রয়েছে অভিযোগ করে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার হাকিম আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। ওই মামলা করার আগে তিনি নিয়ম অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও নেন।

ওই মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা গতবছর ১০ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য প্রথমবার দিন ঠিক করে দেন। এরপর সেই শুনানি আরও কয়েক দফা পিছিয়েছে।

দারুস সালামের ৮ মামলার বিষয়ে জানা যায়, দশম সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে বাধা পেয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে সারা দেশে লাগাতার অবরোধ ডাকেন খালেদা জিয়া।

৯০ দিনের এই কর্মসূচিতে বহু গাড়ি পোড়ানো হয়, অগ্নিসংযোগ হয় বিভিন্ন স্থাপনায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান প্রায় দেড়শ মানুষ।

তখন নাশকতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অসংখ্য মামলা করে। তার মধ্যে দারুস সালাম থানায় দায়ের করা নয়টি মামলায় খালেদাকে হুকুমের আসামি করা হয়, যার মধ্যে আটটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনের।

গতবছর মে ও জুন মাসে খালেদাসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে এসব মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

এরপর ১০ অগাস্ট ঢাকার ১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আট মামলায় জামিন পান খালেদা জিয়া। সবগুলো মামলাই অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার মামলার নথি থেকে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধ-হরতালের মধ্যে ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাঠের পুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়া হলে অগ্নিদগ্ধ ও আহত হন ৩০ জন। এর মধ্যে নূর আলম নামে এক ঠিকাদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কে এম নুরুজ্জামান দুটি মামলা করেন, যাতে অবরোধ আহ্বানকারী বিএনপি চেয়ারপারসনকে করা হয় হুকুমের আসামি।

তদন্ত শেষে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বশির উদ্দিন গত বছরের ৬ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে খালেদাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*