গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে জঙ্গিবাদ সামনে আনা হয়েছে: রুহুল কবির রিজভী


Related image

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, ‘দেশবিরোধী বহু গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জঙ্গিবাদকে সামনে আনা হয়েছে। মানুষ যাতে জঙ্গিবাদী তৎপরতার আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে, আর এই ফাঁকে অশুভ ইচ্ছা বাস্তবায়ন করা যায়।’

১৯ মার্চ রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

রিজভী বলেন, ‘জঙ্গিদের রক্তাক্ত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সরকার নানা তত্ত্ব কথা শুনিয়ে এসেছে। ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দায় চাপিয়ে দেন অন্যের ঘাড়ে। উগ্রবাদীদের নিত্যকার সহিংস ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের উগ্রবাদীদের নির্মূল করার বিষয়ে নানা তর্জন-গর্জন দেশবাসী শুনেছে। কিন্তু নির্মূল তো দূরে থাক, সম্প্রতি গত কয়েক দিনে উগ্রবাদীদের সহিংস ঘটনায় মনে হচ্ছে, এদের নেটওয়ার্ক আরও বেশি বিস্তৃত হয়েছে।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবং ঢাকার আশকোনা ও খিলগাঁওয়ে আত্মঘাতী জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ‘দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই সরকারের বিভেদ-বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে এড়িয়ে মধ্যযুগীয় অন্ধশক্তি জঙ্গিবাদকে দমন করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের জন্য একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত করতে হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপনীয়তা বলে কিছু থাকবে না। আমাদের প্রতিরক্ষা নিয়ে ভারতের সবকিছু জানার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। শক্তিশালী দেশ হিসেবে ভারত নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। তাতে আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন এবং সার্বভৌমত্ব হবে আরও দুর্বল। আওয়ামী সরকার সব সময় ভারতকে খুশি করতে সদা তৎপর থেকেছে। কিন্তু ভারত অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কথা বলে বাংলাদেশ থেকে একচেটিয়া সুবিধা হাতিয়ে নিলেও বাংলাদেশ পায় লবডঙ্কা। সুতরাং ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক এদেশের জনগণ কখনোই মানবে না।’

সে সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।