‘রক অ্যান্ড রোল’ কিংবদন্তি চাক বেরি আর নেই


 

রক অ্যান্ড রোল সংগীত জগতের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব চাক বেরি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

সুরকার, গীতিকার, গিটার বাদক ও গায়ক, চার্লস এডওয়ার্ড অ্যান্ডার্সন বেরি ওরফে চাক বেরির জন্ম ১৯২৬ সালের ১৮ অক্টোবর আমেরিকার মিসৌরি রাজ্যের সেন্ট লুইজ শহরে। হাই স্কুলে গান ও গিটার বাজানোয় তালিম নেন তিনি।  ১৯৫১ সালে একটি বেতার কেন্দ্রের দ্বাররক্ষী হিসেবে কাজ করার সময় একজন সংগীত শিল্পীর কাছ থেকে একটি ইলেক্ট্রিক গিটার কেনেন। সেই সাথে একটি টেইপ রেকর্ডার। আর তখন থেকেই তিনি তার নিজস্ব সংগীত রেকর্ড করতে শুরু করেন।

১৯৫২ সালে সেন্ট লুইজে ‘হাফ’স গার্ডেন’ নামে একটি ক্লাবে তার প্রথম কনসার্ট  পরিবেশিত হয়। তার পর থেকেই ছড়িয়ে পড়ে তার জনপ্রিয়তা। অসংখ্য টেলিভিশন শোর মধ্য দিয়ে তিনি পান এক অসাধারন সাফল্য।

১৯৫৫ সালে তার অ্যালবাম ‘মেবেলিন’ তাকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

পঞ্চাশের দশকে চাক বেরির অসাধারণ সংগীত পরিবেশনা, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ শ্রোতাদের বিভাজনকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। রক সংগীতের আদর্শ হয়ে ওঠেন তিনি। সংগীত জগতের একাধিক প্রজন্মের বহু খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী গেয়েছেন তার গান। চাক বেরির সংগীত দিয়েই ‘দা রোলিং স্টোনস’ এর যাত্রা শুরু। বিটেলস এর জন লেনন একবার বলেছিলেন ‘চাক বেরি না থাকলে হয়ত আমাদের সংগীত জীবন শুরুই হোত না।’

বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৮৫ সালে ‘ব্লুস হল অফ ফ্যাম’ এবং ১৯৮৬ সালে তাকে প্রথম সদস্য হিসাবে ‘রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফ্যাম’ এ অভিষিক্ত করা হয়। ২০০৮ সালে জার্মানিতে সারা জীবনের সংগীত কর্মের জন্য ‘গোল্ডেন ক্যামেরা’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*