বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার রিভিউ শুনানি মুলতবি


Supreme-Court

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবন ভেঙে ফেলতে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) দায়েরকৃত আবেদনের শুনানি মুলতবি করেছে আপিল বিভাগ।

২ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্র পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। তবে, আগামী রোববার এ রিভিউ আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বিজিএমইএ ভবনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২ অক্টোবর রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। পরে ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মুনিরউদ্দিন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভূমির মালিকানা স্বত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। এরপর গত বছরের ২ মে আপিল বিভাগ বিজিএমইএ-এর লিভ টু আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

গত বছরের ৮ নভেম্বর বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। ওই রায়ে বলা হয়, অবিলম্বে ভাঙ্গতেই হবে এই বহুতল অবৈধ ভবন। ভবন ভাঙ্গার যাবতীয় খরচ বিজিএমইএকেই বহন করতে হবে।

বিজিএমইএ না ভাঙ্গলে রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। এ জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা বিজিএমইএর কাছ থেকে নিতে বলা হয়েছে। বিজিএমইএর লিভ টু আপিল খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রিভিউ  আবেদন দায়ের করেন বিজিএমইএ। আবেদনে আপিল বিভাগের রায় স্থগিত করে বহুতল ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য তিন বছরের সময় চাওয়া হয়।