রওশনকে ‘কো চেয়ারম্যান’ না করলে দলীয় সভা বর্জনের হুমকি


000000000000003

রওশন এরশাদকে কো-চেয়ারম্যান না করলে দলীয় সব সভা বয়কটের হুমকি দিয়েছে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। এইচ এম এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করার পর অন্তর্কলহের মধ্যে রোববার সংসদ ভবনে সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এই সভায় জাতীয় পার্টির ৪০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন এরশাদের স্ত্রী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন। দলীয় চেয়ারম্যান এরশাদের একক সিদ্ধান্তে মহাসচিবের পদ হারানো জিয়াউদ্দিন বাবলুর পাশাপাশি মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং দুই প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ও মশিউর রহমান রাঙ্গাও উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় সংসদ সদস্য এরশাদের পাশাপাশি অনুপস্থিত ছিলেন মহাসচিব পদে ফিরে আসা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। নতুন করে পুরনো দায়িত্ব পাওয়ার পর জি এম কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত বনানীতে এরশাদের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকছেন হাওলাদার। দলীয় কার্যালয়ে কাদের-হাওলাদারের সক্রিয়তার মধ্যে সংসদ ভবনে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত অন্য সংসদ সদস্যরা হলেন- সালমা ইসলাম, শওকত চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্, নূরুল ইসলাম ওমর, মুহম্মদ আলতাফ আলী, ফখরুল ইমাম, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, পীর ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবদুল মুনিম চৌধুরী বাবু, মোহাম্মদ জিয়াউল হক মৃধা, মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূইয়া, নূরুল ইসলাম মিলন, মোহাম্মদ নোমান, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবীন মোরশেদ, মেরিনা রহমান, রওশন আরা মান্নান, শাহনারা বেগম, খোরশেদ আরা হক, লিয়াকত হোসেন খোকা, মামুনুর রশিদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি ও সেলিম উদ্দিন। নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের পর রওশন বিরোধীদলীয় নেতার আসন নেন। পাশাপাশি মন্ত্রিত্বও নেন দলটির তিন নেতা। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না মন্তব্য করে সম্প্রতি এরশাদ ভাইকে কো-চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি বাবলুকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল দলীয় চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিগত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান কর্তৃক একতরফাভাবে অগঠনতান্ত্রিক উপায়ে জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান এবং রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব নিয়োগের বিষয়টি প্রত্যাহার করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছিল।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বিরোধীদলীয় সম্মানিত নেতা ও দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম রওশন এরশাদকে দলের কো-চেয়ারম্যান করা হবে। প্রেসিডিয়াম এবং সংসদীয় দলের যৌথসভায় আলোচনা ছাড়া দলের চেয়ারম্যান এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় উপরে উল্লেখিত সিদ্ধান্তসমূহ আজ পর্যন্ত একটিও কার্যকর হয়নি।’ তাই রওশনকে দলের ১ নম্বর কো-চেয়ারম্যান না করা পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদীয় দলের কোনো সদস্য সোমবার ডাকা মতবিনিময় সভার পাশাপাশি কোনো সভায় অংশ নেবেন না বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।