শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করলে আইনি ব্যবস্থা:হানিফ


Hanif_0

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। হানিফ বলেন, ‘বিজয়ের মাসে খালেদা হঠাৎ করেই মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য রেখেছিলেন। তখন বিষয়টি নিয়ে গোটা জাতি তখন অবাক হয়েছিল। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যাটি মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করায় গোটা জাতি বিস্মিত হয়েছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ প্রথমে ভেবেছিল খালেদা জিয়া মুখ ফসকে বা একক কোনো চিন্তা থেকে এই বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী তার দলের নেতারা একই সুরে কথা বলা শুরু করেছেন। তখন জনগণ বুঝতে পারল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌম্যত্বকে নিয়ে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয় নিয়ে ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি কররে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ পাকিস্তানের গণহত্যাকে আড়াল করার জন্যই বেগম জিয়া এমন বক্তব্য রেখেছেন দাবি করে হানিফ বলেন, ‘উনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন না, স্বাধীনতাকে ধারণ করেন না। তখনও উনি পাকিস্তানি ছিলেন, এখন ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া পাকিস্তানি। পাকিস্তানের ধ্যান-ধারণাকে লালন করেন। পাকিস্তানের ভাবধারা প্রতিষ্ঠা করার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। পাকিস্তানের গণহত্যাকে আড়াল এবং খাটো করে দেয়ার জন্য তাদের এই অপচেষ্টা।’ হানিফ বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে হয়রানি বলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্য সাধারণ মানুষ ক্ষেপে গিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি দাবি করছে- জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য এবং হয়রানি করতে এ মামলা করা হয়েছে।’ তার মতে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে তারাই বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার জন্য তারা (বিএনপি’র নেতারা) এই অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন হানিফ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম তাজুল ইসলাম, সদস্য এস এম কামাল প্রমুখ।