মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত ২৭ হাজার অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা


একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত ২৭ হাজার অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের কী পরিমাণ অস্ত্র দেশে রয়েছে এবং সেগুলো বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে সে বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীনুজ্জামান।

এর আগে গত ১৫ নভেম্বর একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো বিক্রির সিদ্ধান্তের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান (পান্না) এবং মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র রিটটি দায়ের করেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব এবং বাণিজ্য সচিবকে এ রিটে বিবাদী করা হয়।

রিটে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা অস্ত্র বিক্রি/ আগ্নেয়াস্ত্র স্থানান্তর কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অবিলম্বে ওইসব অস্ত্র সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ওইসব অস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোনও সংগঠনের কাছে হস্তান্তরের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়াও রুল বিবেচনাধীন থাকায় অবস্থায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রি ও স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করা হয়।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র বেচতে চায় সরকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ওই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান (পান্না) ও মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছে, এমন আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সরকার বেচে দিতে চায়। সরকারের যুক্তি হচ্ছে, এগুলো পুরনো, অপ্রচলিত এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অকার্যকর। ফলে রাখার কোনও দরকার নেই। প্রাচীন নিদর্শন বা স্মৃতিচিহ্ন (অ্যান্টিক সুভ্যেনির) হিসেবে অস্ত্রগুলো কিনে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও সুইজারল্যান্ডের একটি অস্ত্র আমদানিকারক কোম্পানি। এদিকে পুরনোর পাশাপাশি নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রফতানিরও উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। প্রথম উদ্যোগটি নেওয়া হয় ১৬ বছর আগে। এ বিষয় নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।