ব্রিটেনে প্রথম বাংলাদেশি নারী কাউন্সিল লিডার হলেন হামিদা


অ্যান্টিভাইরাল রেমডেসিভিরসহ চারটি ওষুধ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এগুলো খুব একটা কার্যকরী নয়। রোগীদের হাসপাতালে থাকার সময় কমানো কিংবা তাদের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে এ ওষুধগুলোর কোনও প্রভাব নেই বললেই চলে। থাকলেও তা খুবই সামান্য। ডব্লিউএইচও’র এই গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রি-প্রিন্ট সংস্করণ মেড আর্কাইভ সার্ভারে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই গবেষণার ফলাফল এখনও কোনও জার্নাল কর্তৃক পিয়ার-রিভিউড হয়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তিকৃত কোভিড-১৯ রোগীর সার্বিক মৃত্যুহার, বায়ুচলাচলের সূচনা ও হাসপাতালে অবস্থানের ক্ষেত্রে রেমডেসিভির, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির ও ইন্টারফেরন রেজিমেন্সের প্রভাব সামান্য বা একেবারে নেই।

রেমডেসিভির ইবোলো রোগের জন্য উৎপাদন করেছিল মার্কিন ওষুধ কোম্পানি গিলিয়াড সায়েন্সেস। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জরুরি ব্যবহারের জন্য গত ১ মে রেমডেসিভির ওষুধটির অনুমোদন দেয়। এরপর বেশ কয়েকটি দেশে রেমডেসিভির অনুমোদন পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অবস্থানকালে এই ওষুধ গ্রহণ করেছেন।

জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের সহযোগী গবেষণা অধ্যাপক জুলি ফিশার বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবে হতাশার। আমরা সবাই একটি ম্যাজিক বুলেট প্রত্যাশা করছি। যে ওষুধ আগে থেকেই আমাদের হাতে আছে, আমরা চাইছি সে ওষুধটি রোগীদের জন্য (করোনা আক্রান্ত) নিরাপদ এবং কার্যকর কিনা তা দেখতে। দুর্ভাগ্যজনক যে, এই ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার ফলাফলে রেমডেসিভিরের কোনও সুফল পাওয়ার ইঙ্গিত নেই।’

ওষুধগুলোর দৈবচয়ন পরীক্ষা (র‍্যান্ডোমাইজড ট্রায়াল) ৩০টি দেশের ৪০৫টি হাসপাতালে পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৬৬ জন। এদের মধ্যে ২ হাজার ৭৫০ জনকে রেমডেসিভির, ৯৫৪ জনকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, ১ হাজার ৪১১ জনকে লোপিনাভির, ৬৫১ জনকে ইন্টারফেরনের সঙ্গে লোপিনাভির, ১ হাজার ৪১২ জনকে শুধু ইন্টারফেরন এবং ৪ হাজার ৮৮ জনকে কোনও পরীক্ষাধীন ওষুধ দেওয়া হয়নি।

এক বিবৃতিতে গিলিয়াড জানিয়েছে, গবেষণার ফলাফলের তথ্য এখনও কোনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে না যাওয়াতে তারা ‘উদ্বিগ্ন’। এই গবেষণার ফলাফল থেকে কোনও সুনির্দিষ্ট উপসংহারে পৌঁছানো যাবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এর আগে এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে রেমডেসিভিরের একটি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে গিলিয়াড। তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্য ওষুধের তুলনায় কোভিড-১৯ চিকিৎসায় রেমডেসিভির ব্যবহারে সেরে ওঠার সময় পাঁচ দিন কমাতে পারে। এ ছাড়া রেমডেসিভির অক্সিজেন পাওয়া রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমাতে পারে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২ জন।

ডব্লিউএইচও’র পরীক্ষার বিষয়ে গিলিয়াড বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর কাছে দাবি করেছে, উঠে আসা তথ্য অসঙ্গতিপূর্ণ। তাদের দাবি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে একাধিক দ্বৈবচয়ন, নিয়ন্ত্রিত গবেষণার প্রকাশিত ফলাফলে রেমডেসিভিরের ক্লিনিক্যাল সুফলের কথা নিশ্চিত হয়েছে।