প্রতিরক্ষা চুক্তি কারাবাখের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়: রাশিয়া


আর্মেনিয়াসহ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত পাঁচ দেশের সঙ্গে রাশিয়ার যে চুক্তি রয়েছে, কারাবাখের ক্ষেত্রে সেটি কার্যকর নয় বলে জানিয়েছে মস্কো। বুধবার রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ তার দেশের এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

আর্মেনিয়া রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সিএসটিও সামরিক জোটের সদস্য। এ জোট বাইরের আগ্রাসন থেকে সদস্য দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তবে বুধবার মস্কো জানিয়েছে, কারাবাখের ক্ষেত্রে এ জোট বা চুক্তি কার্যকর নয়।

মিত্র আর্মেনিয়ার সমর্থনে কারাবাখে রুশ সেনা পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ওই চুক্তিতে কোনও সদস্য দেশ বাইরের আক্রমণের শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এখানে আমরা আর্মেনিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। প্রেসিডেন্ট পুতিন বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

এর আগে পুতিন বলেছেন, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যে সংঘাত চলছে তা আর্মেনীয় ভূখণ্ডে নয়।

রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সিএসটিও জোটের সদস্যপদ ছাড়াও আর্মেনিয়ায় একটি রুশ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম দেশ আজারবাইজানকে জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে রাশিয়া ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এতে যুক্ত হতে পারে। তবে বুধবার দৃশ্যত এ ইস্যুতে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর ইঙ্গিত দিলো মস্কো।

কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ড হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মূলত এ নিয়েই সংঘাতের সূত্রপাত। নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জেরে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কার্যত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। এতে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ উভয় পক্ষের শতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের বেশিরভাগই আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে জানা গেছে। নতুন করে সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।