কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার অভিযোগ গঠনকে ঘিরে মার্কিন শহরে জরুরি অবস্থা


যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইভিলেতে কৃষ্ণাঙ্গ নারী ব্রেওনা টেইলরকে হত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে শিগগিরই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন স্থানীয় অ্যাটর্নি জেনারেল। ঠিক কখন এ ঘোষণা আসবে সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে জানা না গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন লুইভিলের মেয়র গ্রেগ ফিশচার। সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে শহরটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ১৩ মার্চ রাতে নিজের ফ্ল্যাটে প্রেমিক কেনেথ ওয়াকারের সঙ্গে সিনেমা দেখার সময় দরজায় টোকার শব্দ পান ব্রেওনা। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা ওই ফ্ল্যাটে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে এসেছিলেন। পুলিশের দাবি, তাদের কাছে খবর ছিল ব্রেওনার সাবেক প্রেমিক, মাদক ব্যবসায়ী জামারকাস গ্লোভার এই ঠিকানা ব্যবহার করেই বিভিন্ন প্যাকেজ আদান-প্রদান করেন। গ্লোভারের নাম পুলিশের খাতায় থাকলেও ব্রেওনার কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না । এক বিচারকের দেওয়া ‘নো নক’ পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ দরজা ভেঙে ব্রেওনার ফ্ল্যাটে অভিযানের চেষ্টা করে। গ্লোভারই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে এমনটা মনে করে ওয়াকার তার নিবন্ধিত বন্দুক দিয়ে গুলি চালালে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে তাতে বিদ্ধ হয়ে ব্রেওনা হলওয়েতে লুটিয়ে পড়েন। তার শরীরে ৫টি গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে

২৬ বছর বয়সী ব্রেওনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লুইভিলে শহরটিতে টানা কয়েক মাস ধরেই তুমুল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে; ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ওই পুলিশ সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে কিনা অচিরেই সেই সিদ্ধান্ত জানাবেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আর তার আগে আগে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

মেয়র ফিশচার মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা যদি তাদের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টজনিত অধিকার চর্চা করতে পারেন, সে সুযোগ করে দেওয়া ও তাদের জন্য যথেষ্ট জায়গা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজন পড়লে কারফিউ ও অন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পারবেন মেয়র।

লুইভিলের পুলিশ বিভাগ মঙ্গলবার এক বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘ব্রেওনা টেইলর হত্যা মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যানিয়েল ক্যামেরন যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছেন, তার দিকে গভীর মনযোগ রাখা হচ্ছে। এ ঘোষণাকে সামনে রেখে মানুষের চলাফেরার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এরইমধ্যে শহরটির কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে অসংখ্য স্থানে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে; কেন্দ্রীয় আদালতভবনও বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ ছুটির সব আবেদন বাতিল করেছে। স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন তারা অনলাইনে ক্লাস নেবে।