জাতিসংঘে কাশ্মির ইস্যু তুললেন এরদোয়ান, ক্ষুব্ধ দিল্লি


জাতিসংঘে কাশ্মির ইস্যু তুলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ নিয়ে কথা বলেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হলে কাশ্মির সমস্যার সমাধান করতে হবে। এটি এখনও একটি জ্বলন্ত সমস্যা। জাতিসংঘের প্রস্তাব ও কাশ্মিরের মানুষের প্রত্যাশা মেনে এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।’ এদিকে এরদোয়ানের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি বলেছেন, তুরস্ককে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানো শিখতে হবে। তাদের নীতিতে এর প্রতিফলন থাকা দরকার।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিরুমূর্তি বলেন, ‘ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মির নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মন্তব্য আমাদের চোখে পড়েছে। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়। দিল্লি তা কখনোই বরদাশত করবে না।’

গত এক বছর ধরে পাকিস্তানের বন্ধু দেশ তুরস্ক নানা আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মির প্রসঙ্গ তুলছে বা তোলার চেষ্টা করছে। সপ্তাহখানেক আগেই তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ওআইসির নিন্দা করেছিল ভারত। কারণ, তারা মানবাধিকার কাউন্সিলে কাশ্মির প্রসঙ্গ তুলেছিল। দিল্লির দাবি, তুরস্ক যেন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে।

এমন সময়ে এরদোয়ান জাতিসংঘে কাশ্মির প্রসঙ্গের অবতারণা করলেন যখন এ ইস্যুতে দৃশ্যত পাকিস্তানকে পরিত্যাগ করেছে সৌদি আরব। রিয়াদ বরং দিল্লির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অধিক জোর দিচ্ছে।

কাশ্মির ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিশেষ বৈঠক আহ্বানের প্রস্তাবও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সৌদি আরব। এ নিয়ে চাপ প্রয়োগ করায় পাকিস্তানের সঙ্গে ৬২০ কোটি ডলারের ঋণ ও তেল সরবরাহের চুক্তি বাতিল করে রিয়াদ। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে পাকিস্তানের সঙ্গে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের বদলে ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের প্রতিই অধিক আগ্রহী সৌদি আরব। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মির ইস্যুতে এরদোয়ানের সরব হওয়ার ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

২০২০ সালের আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, কাশ্মির ইস্যুতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক প্রত্যাশা করে ইসলামাবাদ। তবে সেটি না হলে পাকিস্তান এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারে।

সৌদি প্রভাবিত ওআইসি-কে পাশে না পেলে নিপীড়িত কাশ্মিরিদের সমর্থনে যারা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত; তাদের নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বানের কথাও বলেন শাহ মাহমুদ কোরেশি।

ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে আর্থিক, বাণিজ্যিক এবং সামরিক খাতে সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে দৃশ্যত রিয়াদ যেভাবে ইসরায়েল ও ভারতের ঘনিষ্ঠতা তৈরি করছে তার সমান্তরালে পাকিস্তানকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।