সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছে হাজার হাজার থাই নাগরিক


সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জড়ো হতে শুরু করেছে হাজার হাজার মানুষ। আয়োজকেরা আশা করছেন, এখন পর্যন্ত সরকারবিরোধী সবচেয়ে বড় র‍্যালি হতে যাচ্ছে শনিবার। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই শহরটিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। কেউ কেউ আবার কঠোর রাজ অবমাননা আইনের ঝুঁকি মেনে নিয়ে রাজতন্ত্র সংশোধনের দাবি করছেন। মূলত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভে শনিবার হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত গণতন্ত্রপন্থী একটি বিরোধী দল ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন বিক্ষোভ শুরু হয়। ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি (এফএফপি) নামের দলটি দেশটির তরুণ, প্রথমবার ভোটার হওয়াদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চ থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটি তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করে। ওই নির্বাচনে জয় পায় ক্ষমতাসীন সাবেক সামরিক নেতাদের নেতৃত্বাধীন দলটি।

জুন মাসে কম্বোডিয়ায় নির্বাসিত গণতন্ত্রপন্থী অ্যাকটিভিস্ট ওয়ানচালেরাম সাতাসাকসিত নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থাইল্যান্ডের বিক্ষোভ নতুন গতি পায়। ২০১৪ সালে দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই কম্বোডিয়ায় নির্বাসিত থাকা ওই অ্যাকটিভিস্টের সন্ধান এখনও মেলেনি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ থাই সরকার তাকে অপহরণের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে। তবে দেশটির পুলিশ ও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এসব ঘটনার জেরে জুলাই মাস থেকে থাইল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে।

শনিবারের বিক্ষোভে আয়োজকেরা থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের অদূরে একটি পার্ক প্রতিকী দখল করার পরিকল্পনা করছেন। পার্কটি রাজকীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হয়। গত আগস্টে আরেক বিক্ষোভে দশ হাজার বিক্ষোভকারী যোগ দেয় বলে স্বীকার করে পুলিশ।

তবে আয়োজকেরা আশা করছেন শনিবারের বিক্ষোভে আরও অনেক বেশি বিক্ষোভকারী যোগ দেবে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার মানুষ পার্কটিতে সমবেত হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা’র পদত্যাগ দাবি করছেন। ২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা সাবেক সেনাপ্রধান ওচা গত বছরের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়লাভ করেন। আবার দেশটির রাজতন্ত্র সংস্কারেরও দাবি তুলেছেন অনেকে। এই সংস্কারের দাবি থাইল্যান্ডে বেশ স্পর্শকাতর। কারণ রাজতন্ত্রের সমালোচনা করা হলে থাইল্যান্ডে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা’র সরকারের পদত্যাগ এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সমালোচকদের হয়রানির অবসান ঘটানো।