হ্যাকারদের এক ইমেইল ঝাঁকুনি দিলো ভারতকে


অজানা এক আইডি থেকে ই-মেইল আসলো সরকারি অফিসের অ্যাকাউন্টে। তার পরেই কম্পিউটারের একের পর এক তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হতে শুরু! দেখতে দেখতে পুরো কম্পিউটারের তথ্যই বেহাত হয়ে গেল!

সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনফরম্যাটিকস সেন্টার (এনআইসি)-র কম্পিউটারে হানা দিয়েছে হ্যাকাররা। ওই কম্পিউটারগুলি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সম্পর্কিত নানা তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

বেসরকারি সংস্থার দফতর থেকে ওই ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল, তা ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশের সাইবার অপরাধ দমনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশাল সেল। পুরো ঘটনার পেছনের চীনের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা শেনহুয়ার ‘হাত’ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনআইসি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেখানকার কিছু কম্পিউটারের সাইবার নিরাপত্তায় গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়েছে বলে দিল্লি পুলিশের দাবি।

মোদি ও দোভালের পাশাপাশি ওই কম্পিউটারগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আমলাদের নানা তথ্য ছিল বলেও জানানো হয়েছে। ঘটনার কথা জানার পরেই এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে স্পেশাল সেল। বিষয়টি নজরে এসেছে দেশের তথ্য নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম অব ইন্ডিয়া (সার্ট ইন)-র।

স্পেশাল সেলের দাবি, এনআইসি কর্মীরা ওই বিশেষ ই-মেইল ক্লিক করার পরেই তাদের কম্পিউটারের সিস্টেমে গোলযোগ শুরু হয়েছিল।

তদন্তে জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর ওই সংস্থার পাঠানো ই-মেইলের আইপি অ্যাড্রেস খুঁজতে গিয়ে আমেরিকার একটি সংস্থার নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পিছনে চীনা হ্যাকারদের ভূমিকা আছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি খবরে অভিযোগ করা হয়েছিল, চীনের শেনজেনের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘শেনহুয়া ডেটা ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড’ ভারতের রাজনীতি, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচিতে জড়িত ব্যক্তি, এমনকি, সংবাদমাধ্যম ও বাণিজ্যক্ষেত্রের মোট ১০ হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তি সম্পর্কে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করছে।

সাইবার নজরদারি চালানোর অভিযোগে ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি কোঅর্ডিনেটর’-এর নেতৃত্বাধীন কমিটি শেনহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কংগ্রেস নেতা কে সি বেনুগোপালকে জানিয়েছেন।