২য় পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের


২য় বারের পরীক্ষাতেও করোনা পজিটিভ এসেছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর। এই প্রেসিডেন্ট বলছেন, তিনি এখনও ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খাচ্ছেন। খবর আল জাজিরার।

অনেক দেশই ইতোমধ্যে করোনার চিকিৎসায় এই ওষুধটি ব্যবহার করা শুরু করেছে। তবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এই ওষুধ করোনার চিকিৎসায় কার্যকর কিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বুধবার দ্বিতীয়বার করোনার পরীক্ষা করিয়েছেন বোলসোনারো। এরপরেই জানা যায় যে, তিনি এখনও করোনা থেকে সেরে ওঠেননি।

এরপরেই সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন বোলসোনারো। সেখানেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পক্ষে আবারও সাফাই গেয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি প্রথম থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খাচ্ছি। আমি যেদিন থেকে খাচ্ছি তার পরদিন থেকেই ভালো অনুভব করছি। এটা কাকতালীয় হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে এটা আমার ক্ষেত্রে কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা এখনও এই ওষুধের কার্যকারিতার বিষয়টি স্বীকার করেননি। চিকিৎসকরাও এই ওষুধের মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ওষুধ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ব্রাজিল। করোনা নিয়ন্ত্রণে বোলসোনারো সরকারের খাম-খেয়ালি এবং কঠোর পদক্ষেপের অভাবে দেশটি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে।

সম্প্রতি বোলসোনারোর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয় এবং প্রবল জ্বরে ভুগছিলেন ৬৫ বছর বয়সী এই নেতা। পরবর্তীতে তার দেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

তবে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোয়ারেন্টাইনে থেকে বিরক্ত হয়ে গেছেন বোলসোনারো। সে কারণেই কোযারেন্টাইনের শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি।

কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে বোলসোনারো বলেন, আমি এভাবে বাসায় থাকতে পারছি না। এই রুটিনে চলা যায় না। এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর।

বোলসোনারোর মতে, তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো অনুভূব করছেন। এখন তার জ্বর নেই এবং শ্বাসকষ্টও হচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, তিনি খাবারের স্বাদও হারাননি। যদিও অনেক করোনা রোগীই যে কোনো কিছুর গন্ধ ও খাবারের স্বাদ হারিয়ে ফেলে।

তিনি আরও বলেছেন, যদি সবকিছু স্বাভাবিক থাকে তবে তিনি কাজে ফিরে যাবেন। আর যদি স্বাভাবিক না হয় তবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।