সরকার একদিন বন্দিশিবিরে থাকবে, আমরা মুক্ত হবো: অরুন্ধতী


ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএন) ও জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) নিয়ে আবারও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়েছেন বুকারজয়ী লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সিএএন’র প্রতিবাদে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে আসেন তিনি। শুরু থেকে এসব আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার অরুন্ধতী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হয়ে তাদের সাহস জুগিয়ে বলেছেন,  একদিন মানুষ মুক্ত হবে আর সরকার থাকবে বন্দিশিবিরে।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ায় গত ১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত জামিয়া মিলিয়ার শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য দিয়েছেন অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব।

শনিবার মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায় জামিয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যদি আমরা সবাই একত্রিত থাকি, তাহলে কোনও বন্দীশিবিরই আমাদের বন্দী করে রাখার মতো যথেষ্ট বড় হবে না। কোনও এক সময় হয়তো এমন দিন আসবে, যখন এই সরকার নিজেই বন্দিশিবিরে বন্দি থাকবে, আর আমরা থাকবো আজাদ (মুক্ত)। আমরা আন্দোলন থেকে পিছু হটবো না।’ অরুন্ধতীর এমন মন্তব্যে করতালিতে ফেটে ওঠে ক্যাম্পাস চত্বর৷

গত মাসেই নতুন এই নাগরিকত্ব আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ ও ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছিলেন অরুন্ধতী। সরকারকে এই আইন প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে অরুন্ধতী রায়ের বক্তব্য দেওয়ার ভিডিও শেয়ার করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান খান।

গত ১২ ডিসেম্বর ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আইনটিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে রাজ্যে রাজ্যে বিক্ষোভ চলছে। ১৯ ডিসেম্বর দিল্লির এক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে অ্যাকটিভিস্ট অরুন্ধতী রায় বলেছিলেন, ‘অসাংবিধানিক সিএবি ও এনআরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সবাই অংশ নিয়েছে। প্রতিবাদে দলিত, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, শিক, আদিবাসী, মার্কসবাদী, অম্বেদকারবাদী, কৃষক, শ্রমিক, গবেষক, লেখক, কবি, শিল্পী ও শিক্ষার্থী-সবাই অংশ নিয়েছে। এখন আপনারা (সরকার) আমাদের থামাতে পারবেন না।’