৩৮ আরোহী নিয়ে চিলির সামরিক বিমান নিখোঁজ


অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশে যাত্রা করা চিলির একটি সামরিক বিমান ৩৮ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। দেশটির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল চারটা ৫৫ মিনিটে দক্ষিণাঞ্চলীয় পান্টা এরিনাস থেকে যাত্রা শুরু করা সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমানটি ৬টা ১৩ মিনিটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৭ জন কর্মী ও ২১ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি অ্যান্টার্কটিকার কিং জর্জ দ্বীপের একটি সামরিক ঘাঁটিতে লজিস্টিক সহায়তা দিতে যাচ্ছিল। বিমানটির খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

চিলির বিমান বাহিনীর জেনারেল এডুয়ারডো মসকুয়েইরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি কোনও সতর্ক সংকেত পাঠায়নি। পাইলট খুবই অভিজ্ঞ বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিমানটি হয়তো পানিতে অবতরণে বাধ্য হয়েছে।

বিমান বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিমানটির গন্তব্য স্থল ছিল ৭৭০ মাইল দূরে। নিখোঁজের আগে এটি প্রায় ৪৫০ মাইল অতিক্রম করে ফেলে। ওই সময়ে এটি ড্রেক প্যাসেজ এলাকায় ছিল বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে। দক্ষিণ আটলান্টিক ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী পানিপূর্ণ এলাকা ড্রেক প্যাসেজ। সেখানকার আবহাওয়া চরম মারাত্মক আকার ধারণের জন্য পরিচিত। তবে চিলির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি নিখোঁজের সময় সেখানকার আবহাওয়া বেশ ভালো ছিল। বিমানটিতে রাত ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ওড়ার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি ছিল বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

চিলির বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানটির আরোহীদের মধ্যে তিন জন সেনা সদস্য, দুই জন বেসামরিক লোক (প্রকৌশল ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই দুই ব্যক্তি সামরিক ঘাঁটিতে কাজ করতে যাচ্ছিল), ম্যাজেলানেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও বাকি ১৫ জন বিমান বাহিনীর সদস্য ছিল। এছাড়া আরও ১৭ জন কর্মী ছিল। আরোহীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিমান বাহিনী।

বিমান বাহিনীর জেনারেল ফ্রান্সিসকো টোরেস বলেছেন, সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানঘাঁটিতে পৌছাতে ব্যর্থ হওয়ার পরপরই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। আটটি বিমান ও চারটি জাহাজ এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। বিমানটি যে এলাকায় নিখোঁজ হয়েছে সেখানে প্রাথমিকভাবে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ বিমানের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শেষ যোগাযোগের স্থান থেকে ৬০ কিলোমিটার বৃত্তাকার স্থান জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা।