সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির


জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে রাষ্ট্রের সব উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হয় উল্লেখ করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে যশোর সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের ৬ষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসস’র।

এসময় তিনি সেনাবাহিনীর জওয়ানদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।

আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জামাদির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের সদস্যরা যুদ্ধের সময় বিভিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য দায়িত্ব পালন করেন।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিশেষ করে সিগন্যাল কোরের সদস্যগণ তাদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

বর্তমান সরকার প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দেশের মানুষ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে কার্যকরভাবে এর সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় সেনাবাহিনীতে সাইবার ওয়ারফেয়ার গ্রুপ, ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট ও স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সমিশন ইউনিট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সমর শক্তি ও যোগাযোগ সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে।

এসময় তিনি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা,জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) কার্ড ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিদেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরকে গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বাহিনীর সদস্যরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করেছে।

যশোর সেনানিবাসের শহীদ ক্যাপ্টেন আব্দুল হামিদ প্যারেড গ্রাউন্ডের কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি সালাম গ্রহণ করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিথ ছিলেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভুইয়া, সংসদ সদস্য শেখ অফিল উদ্দিন, মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাসির উদ্দিন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, কূটনীতিক, সিগন্যাল কোরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকতা ও রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিব প্রমুখ।