সুস্থধারার রাজনীতি ছাড়া দেশ চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী


 

সুস্থধারার রাজনীতি ছাড়া দেশ চলবে না মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিক ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মতামত দেন।

এরপর শনিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘তৃণমূল থেকেই আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা দেখছি, চার দিকে নানান ষড়যন্ত্র চলছে। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে কিন্তু স্বাধীনতা ও দেশ বিরোধী এবং প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের কারো কোনো স্থানই থাকবে না। এ কারণে তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠবে। তারা তাদের চিরদিনের যে ষড়যন্ত্র, তা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন তারা মরণ কামড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। সেজন্য আমাদেরও প্রতি মুহূর্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলমান এ অবস্থায় আমাদের সবাইকে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিতে তৃণমূল থেকে কাজ করতে হবে। আমরা এ নিয়ে চতুর্থবার সরকার পরিচালনা করছি। দীর্ঘদিন সরকারে থাকলে সাংগঠনিক কাজের মধ্যে কিছুটা ভাটা পড়ে। কিন্তু এখনই আমাদের সময়, সাংগঠনিকভাবে আলাপ-আলোচার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া।’

‘সামনে আমাদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেব কাজগুলো যেন আমরা সঠিকভাবে করতে পারি এবং কাউন্সিল পরবর্তী বঙ্গবন্ধু কন্যার যে প্রচেষ্টা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, সে কাজে আমরা একজন কর্মী হিসেবে কাজ করব। সে বিষয়ে আমাদের এ সভায় আলোচনা করব,’ যোগ করেন দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘জেলার বর্ধিত সভা হচ্ছে সর্বোচ্চ ফোরাম। এখানে এসে কেউ সংকুচিত হয়ে থাকবেন না। কারণ সাংগঠনের নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। প্রত্যেকের মনের কথাগুলো তুলে ধরতে হবে। ব্রিবতকর অবস্থায় পড়বেন মনে করে অনেকেই কথা বলেন না। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দিয়ে আমাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, আমাদের সে কাজে সহযোগিতা করতে হবে। আর তার জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।’

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের সঞ্চালনায় অনেকের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর অব. রফিকুল ইসলাম, সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইউসুফ গাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান ভুঁইয়াসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শনিবার সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘সব ক্ষেত্রে রাজনীতিকে দোষ দিলে হবে না। রাজনীতি ছাড়া দেশ চলে? আপনি যা কিছু করবেন, তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই চলে। কিন্তু রাজনীতিটা যেন সুষ্ঠু হয়, সুস্থধারার হয়। রাজনীতিকে যেন কেউ ক্ষমতার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো অপকীর্তি করতে না পারে। এটির জন্য রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আর এক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদেরও একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংগঠনিক রাজনীতি চলবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে চলে, তারা তাদের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এবং বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক রাজনীতি চলবে কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, ‘বুয়েটে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে হয়তো অপরাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিং, বুলিংয়ের অপসংস্কৃতি ছিল দীর্ঘদিন ধরে, যেটি পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই আছে এবং তা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। সেটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে বুয়েটের ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের আগে থেকেই যদি একটু উদ্যোগ থাকত, তাহলে এ ধরনে ঘটনা ঘটত না।’

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলালসহ অনেকে।