চুক্তিতে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের লাভ-ই বেশি


 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভারত সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে যেসব চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে, তাতে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশেরই লাভ-ই বেশি।

তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেকোনো সময়ের চেয়ে উচ্চমানে এবং প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের মধ্য দিয়ে আবারও তার প্রমাণ মিলেছে। দুটি দেশে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করে একে অপরের প্রতি কীভাবে সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারে, তার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ভারত-বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে- এমনটি জানিয়ে এই রাজনীতিক বলেন,‘পারস্পরিক সমস্যাগুলো দূরীকরণে কথা হয়েছে। যেমন- রোহিঙ্গা, তিস্তার পানিবণ্টনসহ অন্যান্য নদীর সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের ব্যাপারে, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্ব পেয়েছে এই সফরে। এ কারণেই আমরা এই সফরকে ফলপ্রসূ সফর মনে করছি। যে সমস্যাগুলো আছে, তা আগামী দিনে সমাধান হবে বিশ্বাস করি।’

সফর নিয়ে কূটনীতিক বিশ্লেষকদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কূটনীতিকদের বক্তব্য শুনেছি। তাদের বক্তব্য মিডিয়াকে খুশি করার জন্য। বিশ্বের কোনো দেশেই সব সমস্যা এক সফরের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায় না। যারা এই সফর নিয়ে সমালোচনা করছেন, তারা হয়তো কূটনীতি বোঝেন না, নয়ত বলার জন্য বলছেন।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতার টানা ১০ বছর পার করল এবং ভারতের সঙ্গে সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল- এর জবাবে ফারুক খান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাইছি, অন্য সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তারা কী করেছেন? সমালোচকরা কী করেছেন তখন? তারা তো একটি সমস্যাও সমাধান করতে পারেননি।’

পানির সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু তিস্তা নয়, অন্যান্য নদী নিয়েও সমস্যা আছে। আমাদের বুঝতে হবে আমাদের সব নদীর পানি আসে ভারত থেকে। এ পানিতে ভারতেরও অধিকার আছে। কিন্তু পানি নিয়ে ভারতের যে নীতি, তার বিরোধিতা আমরাও করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিতে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশেরই লাভ-ই বেশি। যারা সমালোচনা করেন, তারা শুধু রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্যই করছেন। ফিলিস্তিনের সমস্যা সমাধান হয়নি কেন, কাশ্মীরে ৭০ বছরে শান্তি আসেনি কেন? এগুলোও তো আমাদের সামনে উদাহরণ। রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা তৎপর। সমাধানের পথ বের করছি। অধৈর্য হলে সত্যিকার সমাধান হয় না।’