যে কারণে ভন্ডুল হলো যুক্তরাষ্ট্র-তালেবানের গোপন বৈঠক


 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও তালেবানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) গোপন বৈঠকের কথা ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু গতকাল এক টুইট বার্তায় তিনি তা বাতিল করে দিয়েছেন।

গত সপ্তাহেই মার্কিন আলোচকরা তালেবানের সঙ্গে একটি খসড়া শান্তি চুক্তির ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন। ধারণা করা হয়েছিল, দুই পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। কিন্তু এর মধ্যেই তালেবান স্বীকার করে, গত বৃহস্পতিবার কাবুলে যে হামলায় একজন মার্কিন সৈন্যসহ ১২ জন নিহত হয়, সেই হামলা তারা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ওই চুক্তি আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।

এর পরই এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, রোববার ক্যাম্প ডেভিডে তালেবান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু আমি ওই বৈঠক বাতিল করার সিদ্ধান্ত  নিয়েছি। এছাড়া তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থগিত রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে কাবুলে সাম্প্রতিক বোমা হামলায় এক মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

গত এক বছর ধরেই মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে তালেবানের শান্তি আলোচনা চলছিল। আফগান সরকারকে বাইরে রেখেই তালেবানের সঙ্গে ওই আলোচনা চালাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কারণ প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুল’ বলে মনে করে তালেবান।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুইটের পর আশরাফ ঘানি বলেছেন, সত্যিকারের শান্তি তখনই সম্ভব যখন তালেবান যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে রাজি হবে।

এই প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাওয়ার খবরে কাবুলের এক নারী বিবিসিকে বলেন, কেন একজন আমেরিকানের মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলেন? এত যে আফগানের মৃত্যু হয়েছে তাদের জীবনের কি তাহলে কোনো দাম নেই?

কাতারের দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক অফিসের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার জন্য তারা এক জরুরি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।

এই শান্তি চুক্তির আওতায় আগামী ২০ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ৫ হাজার ৪০০ সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। আফগানিস্তানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ হাজার সৈন্য রয়েছে।