সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে


সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোথাও জাতির জনক নিয়ে কোনো রকম বিতর্ক নেই। আমাদের দেশেও জাতির জনক নিয়ে কোনোরূপ বিতর্ক থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কোনো বিতর্ক সহ্য করা হবে না। যে জাতির শিল্প-সাহিত্যে জাতির জনকের চর্চা হয় না, জাতির জনককে ফুটিয়ে তোলা হয় না, সে জাতি হতভাগা। শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ আয়োজিত ‘২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি (উদ্বোধক) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম।

প্রধান অতিথি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু জাতির পিতা নন বরং এ দেশের এমন কোনো স্থান ও মাধ্যম নেই যেখানে তার পদচারণা ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনি বাংলাদেশ পুনর্গঠন করেছেন। তিনি সে সময় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, টেক্সটাইল কলেজ প্রভৃতি স্থাপন করেছেন। কত দূরদর্শী এবং বিচক্ষণ ছিলেন বলে সে সময়ে তিনি এতকিছু গড়ে তুলেছেন এবং পরিকল্পনা করেছেন।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় বেশ গুরুত্বারোপ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘জাতীয় চিত্রশালা এবং জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জাতীয় চিত্রশালা ভবনের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বর্তমান ভবনের ওপরে আরও ৩টি তলা নির্মাণ করা হবে যাতে আধুনিক বেশ কয়েকটি গ্যালারির পাশাপাশি একটি বড় মিলনায়তন নির্মাণ করা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম পপলু। উল্লেখ্য, জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনী আগামী ০২-২১ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে ৩১০ জন শিল্পীর ৩২২টি শিল্পকর্ম স্থান পাচ্ছে।