ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার গুন্ডামির আশ্রয় নিয়েছে: দুদু


ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নির্বাচনকে বিপথগামী ও বিতর্কিত করার করার জন্য অবৈধ সরকার গুন্ডামির আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু।

১৪ জুলাই, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্নেল অলিকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার প্রতিবাদে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদু এ মন্তব্য করেন।

দুদু বলেন, ‘খুব সন্নিকটে জাতীয় নির্বাচন। আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে এই নির্বাচন হবে। যার কারণে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নির্বাচনকে বিপথগামী ও বিতর্কিত করার জন্যে ও ২০ দলীয় জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে রোধ করার জন্য তারা গুন্ডামির আশ্রয় নিয়েছে।

আমরা পাকিস্তানের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মীমাংসা করেছি আমাদের ক্ষমতাকে তারা রোধ করতে চেয়েছিল। আজকেও যারা (সরকার) গুন্ডামি করে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে, তার মীমাংসাও আমরা গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে করব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বিএনপির দুদু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি হয়তো এটা বুঝতে পেরেছেন, যদি স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে আপনার নৌকার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। তাই আপনি তাড়াহুড়ো করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবে—এটা যদি ভেবে থাকেন, তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন।

আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে, শেখ হাসিনার ১০ বছরের যে অপশাসন, ব্যাংক-শেয়ার বাজারে লুটপাট, মানুষকে গুম, হত্যা, নিখোঁজ করা হয়েছে—তার প্রেক্ষিতে এই দেশে তারা আর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। যার কারণে তারা বারবার নির্বাচনকে কলুষিত করতে চাচ্ছে, গুন্ডামির ক্ষেত্র বানাতে চাচ্ছে।’

খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে দাবি করে দুদু বলেন, ‘একেবারে মিথ্যা মামলা, যে মামলার কোনো ধরনের ভিত্তি নেই। এটা কল্পনাও করা যায় না। বাংলাদেশের যতগুলো নির্বাচনে তিনি জীবনে অংশগ্রহণ করেছেন, কোনো নির্বাচনে তিনি পরাজিত হননি। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি গণতন্ত্রের একটি প্রতী‌কে রূপান্ত‌রিত হয়েছেন। সেই ব্যক্তিকে তথাকথিত বিচারের নামে ভণ্ডামি করে কারাগারে রাখা হয়েছে।

এই সরকার শুধু গণতন্ত্র না, এ দেশের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনকে ধ্বংস করেছে। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যদি রক্ষা করতে হয়, পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে এই অবৈধ সরকারের অপসারণ ছাড়া সেটা কখনো সম্ভব না। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে আবারও গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে, যেমনিভাবে ঘটানো হয়েছিল ’৬৯ ও ৯০-এ।’

এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।