বাদ পড়ল নিবন্ধিত ১ রাজনৈতিক দল, যোগ হচ্ছে ২


নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটির নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অন্যদিকে নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৭৫টির মধ্যে দুটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিতে মাঠ পর্যায়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

১২ জুন, মঙ্গলবার দুপুরে ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে কমিশনের ৩১তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে চার কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।

নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে ‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন’-এর। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগ’ ও ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’ নামের দুই দলের বিষয়ে।

নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা প্রতিবেদন চেয়েছিলাম। প্রত্যেকেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শুধু ‘‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন’’ যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এ কারণে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির নিবন্ধনের আর কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান সচিব।

প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যথাসময়েই জমা দেওয়া হয়েছে।’

ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি ড. কাজী ফারুক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ পিন্টু। দলটির নির্বাচনী প্রতীক চাবি। মিরপুরের পল্লবীতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৫টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্ধারিত ফি জমা না দেওয়ায় ১৯টির নিবন্ধন আবেদন বাতিল করা হয়। বাকি ৫৬টি দলকে আরও কিছু তথ্য দিতে বলা হয়। সেগুলো না দেওয়ায় ৪৫টি রেখে বাকিগুলোর আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়।

হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া শর্ত যথাযথভাবে পূরণ না করায় পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসকে রেখে ৪৩টির আবেদন বাতিল করা হয়। দল দুটির আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এক মাসের সময় দেওয়া হবে।

এদিকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নতুন একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনও বাতিল করে দেয় কমিশন। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবরে আমরা নতুন দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করি। আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তিনি (নাজমুল হুদা) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না করে আবেদন করেন ২৬ মার্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করায় কমিশন তা বাতিল করে দেয়। তিনি হাইকোর্টে গেলে হাইকোর্ট তার আবেদন বিবেচনা করতে বলে।

যাচাই-বাছাই করে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধনের জন্য তিনি নির্ধারিত ফি জমা দেননি। নিবন্ধন দেওয়ার জন্য প্রাথমিক তথ্যগুলোও দেননি। তাই আজকের সভায় তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।’