গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত : পেছাল আপিল শুনানি


সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছে আদালত।

৯ মে, বুধবার সকাল নয়টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী মো. ওবায়দুর রহমান মোস্তফা আপিল ফাইল করেন। তিনি আদালতে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ মামলায় আপিলের শুনানির করতে চায়। তখন আদালত মামলার আপিল শুনানি করতে আগামীকাল দিন নির্ধারণ করেন। আদালত তার আদেশে বলেন, ‘‘নট টুডে’’।’

এ সময় আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন রোকন উদ্দিন মাহমুদ। হাসান উদ্দিনের পক্ষে ছিলেন জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। জাহাঙ্গীরের পক্ষে ছিলেন শফিকুল ইসলাম বাবুল।

এর আগে ৮ মে শুনানি স্থগিত করে আজকের দিন ধার্য করে আদালত। একই সঙ্গে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও জাহাঙ্গীর আলমের করা আবেদনের শুনানি করে এ আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন স্থগিতের বিরুদ্ধে দুই মেয়র প্রার্থী আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দাখিল করেন।

গত ৬ মে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুলও জারি করা হয়। পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে ৬ এপ্রিল রিট আবেদনটি দায়ের করেন সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এখানে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন।

গত ৪ মার্চ সিটি করপোরেশনের সীমানা নিয়ে গেজেট জারি হয়। যেখানে শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, পানিশাইল ও ডোমনাগকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ জানান, ২০১৩ সালে এ ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তখন বিষয়টি নিয়ে এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহ্য না করায় হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করতে নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ২০১৬ সালে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে এ ছয়টি মৌজা শিমুলিয়ার মধ্যেই ছিল। নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন আবার এ ছয় মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেহেতু তিনি ছয়টি মৌজার ভোটেও নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাই এ ছয়টি মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন আগামী ১৫ মে হওয়ার কথা ছিল। হাইকোর্টের আদেশের পরপরই গাজীপুর সিটি নির্বাচনসংক্রান্ত সব ধরনের কাজ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।