মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ‘আকাশেই ধ্বংস করছে’ সিরিয়া


যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রকে সিরিয়া আকশেই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কাজে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পৃক্ত নয় বলে মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরটির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ থেকে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। লোহিত সাগরে অবস্থান করা দুটি যুদ্ধ জাহাজ থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূ-মধ্যসাগর থেকে বিমান হামলা চালানো হয়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনীর বিমান থেকে ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে যার মধ্যে ৭১টিই প্রতিহত করেছে সিরিয়া।

সিরিয়া রাজধানী দামেস্ক থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আল-দৌমার সামরিক বিমান ঘাটিতে ১২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আক্রমণ ঠেকানোর জন্য রাশিয়ার তৈরি আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি (এস-১২৫, এস-২০০, টুকে১২কাব) ব্যবহার করে সিরিয়া।

সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত দৌমা এলাকায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ তোলার পর ১৪ এপ্রিল, শনিবার ভোরে  দেশটির কয়েকটি সরকারি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

সিরিয়ার সামরিক-বেসামরিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বিমান হামলা জাতিসংঘের চুক্তি (ইউএন চার্টার) ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিও দিয়েছে রাশিয়া। ওই বিবৃতিতে পুতিন বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের বিপক্ষে আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

পুতিনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সম্মিলিত হামলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত নয়। এই হামলার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘকে পাশ কাটানো হয়েছে।

হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আহ্বান জানাবে রাশিয়া। এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘আগ্রাসী’ তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হবে।

শনিবার ভোরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের আশপাশে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র রাষ্ট্রগুলো। রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ আছে সন্দেহে তিনটি ভবনে হামলা করা হয়।

দামেস্কে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হামলার প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস বলেন, প্রতিটা দেশ জাতিসংঘের নীতি মানতে বাধ্য। শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো মোকাবেলা করার জন্য সবাইকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে।