অলস্টারস অব দ্য ম্যাচ সাকিব


ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে শিখর ধাওয়ানের হাতে। ৫৭ বলে ৭৭ রান করার পর হিসেব মতে সেটাই হওয়ার কথা। কিন্তু ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর দৃষ্টিতে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে নায়ক ছিলেন অন্য কেউ। তিনি বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান।

ক্রিকইনফো তাদের ‘অল স্টারস অব দ্য ম্যাচ’র তালিকায় বেছে নিয়েছেন সাকিবকে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে ক্রিকইনফো তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে লিখেছে, আগের মৌসুমগুলোতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সাফল্যের বেশির ভাগই এনে দিয়েছে তাদের শক্তিশালী বোলাররা। এ বছর জানুয়ারিতে আইপিএলের নিলামে দলের ম্যানেজমেন্ট তাদের বোলিং আক্রমণ আরও বাড়িয়েছে। সাকিব আল হাসানের মতো কিছু বুদ্ধিদীপ্ত বোলারকে দলে টেনেছে। যার আইপিএলে ৪৩ ম্যাচে ৪৫ উইকেট আছে, এই লিগের সেরা ৫ বাঁহাতি স্পিনারের সে একজন। নতুন দলের হয়ে প্রথম দিনেই সাকিব দুর্দান্ত খেলে এই বিশ্বাসটিকে আরও পোক্ত করে ফেলেছে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) একাদশ আসরের প্রথম ম্যাচেই ৪-০-২৩-২ বোলিং ফিগার সাকিবের। যা টি-টোয়েন্টিতে ভালোই বলা যায়। তবে হয়তো ম্যাচের প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। তবু সাকিব কেন অলস্টার অব দ্য ম্যাচ?

এর ব্যাখ্যায় ক্রিকইনফো বলেছে, ‘সাকিবের এই পারফরম্যান্সের আসল মূল্য শুধু সংখ্যা দিয়ে বোঝা যাবে না। হায়দরাবাদের দারুণ উইকেটে সাকিবকে চতুর্থ ওভারেই আক্রমণে আনা হয়েছে। পাওয়ার প্লেতে দুই ওভার বল করে মাত্র ১৩ রান দিয়েছেন তিনি। রয়্যালস যখন ওভারে আট করে রান তুলছিল, তখন তিনি ৬.১৩ ইকোনমিতে বল করেছেন। এর থেকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা টি_টোয়েন্টিতে কঠিনই বলা যায়।’

ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ‘সাকিব যখন পরের স্পেলে ফিরলেন, রয়্যালস অবশ্য ততক্ষণে দুই উইকেট হারিয়েছে। রান রেট সাত। এসময়ে ফ্লাইট আর স্কিডের মিশ্রণে নিখুঁত ডেলিভারি করে সাকিব রয়্যালসকে এক-দুই রান করার মধ্যেই আটকে রেখেছিলেন। রয়্যালস এমনিতেই মাঝের ওভারগুলোতে ধোঁকার ইতিহাস আছে। আর ২০১৫ আইপিএল থেকে মাঝের ওভারগুলোতে ৬.৫২-এর স্মার্ট ইকোনমি রেটে বল করা সাকিবও এমন একজন বোলার, এই পর্যায়ে সানরাইজার্সের যাকে সত্যিই দরকার।’

ক্রিকইনফো লিখেছে, ‘সাকিবের সবগুলো ডেলিভারি ছিল রয়্যালসের টপ অর্ডারের বিপক্ষে। যেখানে খেলেন অজিঙ্কা রাহানে, সঞ্জু স্যামসন, রাহুল ত্রিপাঠি এবং জস বাটলারের মতো ব্যাটসম্যান। এদের দুজনের আইপিএল স্ট্রাইক রেট ১৪৪-এর ওপরে। কিন্তু সাকিব ওভারে ছয়ের নিচে রান রেখেছিলেন। আর নিজের শেষ ওভারে তো ত্রিপাঠি আর স্যামসনকে দুজনকে তুলেই নিলেন চার বলের ব্যবধানে। এই জোড়া আক্রমণই রয়্যালসকে পতনের ধাক্কাটা দিল, ৩১ রানের মধ্যে ওরা ৬ উইকেট হারিয়ে খুবই ছোট একটি সংগ্রহ পেল।’

ম্যাচে সাকিবের গুরুত্ব বুঝাতে সংখ্যায় কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছে ক্রিকইনফো-

* সব মিলিয়ে সাকিব ৯টি ডট দিয়েছেন, মাত্র দুটি চার হজম করেছেন। বাকি রানগুলো দৌড়ে কষ্ট করে নিতে হয়েছে।

* সাকিবের ২৪ ডেলিভারির প্রতিটাই ডানহাতি ব্যাটসম্যানরা খেলেছেন, এর মধ্যে ১৬টি বলে শটে নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের।

* স্যামসনের মতো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানকে ১২ বল করে সাকিব মাত্র ১৪ রান হজম করেছেন, তার উইকেটও নিয়েছেন।