অবশেষ মহানগরীতে ঢুকে গেলেন সাখাওয়াত


বিশেষ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসন থেকে বিএনপির দুই জন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় সাবেক এমপি মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। যে কারণে কৌশলে মহানগরীর রাজনীতি থেকে সাখাওয়াতকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন আবুল কালাম। অবশেষে সেই সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগরীর রাজনীতিতে ঢুকে গেলেন। টানা দুটি কর্মসূটিতে মহানগরীর সাথেই দেখা গেল সাখাওয়াতকে।

জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জেলা প্রশাসককে দেয়া স্মারকলিপি কর্মসূচিতে সাখাওয়াতকে এগিয়ে গিয়ে পালন করেছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারি। ওই দিন সাখাওয়াত হোসেন খান জেলা বিএনপির সঙ্গে কর্মসূচি পালন করেন। সাখাওয়াতকে কর্মসূচিতে থাকতে বলেও আবুল কালাম ও এটিএম কামাল কর্মসূচিতে সাখাওয়াতকে রাখেননি। ফলে সাখাওয়াত জেলা বিএনপির সঙ্গে কর্মসূচিটি পালন করেন।

একইভাবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি চাষাঢ়া শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো কর্মসূচিতেও সাখাওয়াতকে রাখেননি আবুল কালাম ও এটিএম কামাল। সাখাওয়াতকে রেখেই মহানগর বিএনপির নেতারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। ওইদিনও সাখাওয়াত হোসেন খান জেলা বিএনপির সঙ্গে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সেখানে কৌশলে সাখাওয়াতকে রাখেননি আবুল কালাম ও এটিএম কামাল। ফলে মহানগরীর বিএনপির মূলধারার কমিটির রাজনীতি থেকে ছিটতে পড়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া বালুর মাঠে মানবববন্ধন কর্মসূচিতে সাখাওয়াত হোসেন খানকে সাথে নিয়েই কর্মসূচি পালন করেছে মহানগর বিএনপি। তবে এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতেও সাখাওয়াত হোসেন খান ছিলেন। কিন্তু সেদিন কৌশলে সাখাওয়াতকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি। তিন মিনিটের মধ্যেই সাখাওয়াতকে বক্তব্য দিতে না দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে দেন আবুল কালাম। গত ৬ ফেব্রুয়ারি চাষাঢ়া বালুর মাঠে মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে সাখাওয়াত হোসেন খান বক্তব্য রেখেছিলেন।

তবে সাখাওয়াতকে বাদ দিয়ে মহানগর বিএনপি কর্মসূচি পালণ করার পর তুমুল সমালোচনায় পড়েছিলেন আবুল কালাম ও এটিএম কামাল। মূলত মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সাখাওয়াতকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর মহানগর বিএনপির ব্যানারে এককভাবে কর্মসূচি পালন করেছিলেন সাখাওয়াত। তারপর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে তিনি মহানগর বিএনপির ব্যানার আর ব্যবহার করেননি। পরবর্তীতে বেশকবার মহানগর বিএনপির মূলধারায় কর্মসূচিতে আসার চেষ্টা করলেও তাকে এড়িয়ে গিয়েছিল মহানগর বিএনপি। এবার মূলধারাতেই ফিরেছেন সাখাওয়াত।