পিএসজির স্বপ্ন চুরমার করে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল


ঘরের মাঠেও পারল না প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। পার্ক ডি প্রিন্সেসে মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ গোলে হারায় পিএসজিকে। আর তাতেই সমষ্টিগতভাবে স্পেনের জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ৫-২ গোলে পিএসজিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে।

সেইসঙ্গে টানা অষ্টমবারের মতো ইউরোপ সেরার এই টুর্নামেন্টের শেষ আটে জায়গা করে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। সর্বোচ্চ টানা ১০বার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার রেকর্ডটা বার্সেলোনার দখলে।

কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল পিএসজি। সেই ম্যাচেই শেষ আটে এক পা দিয়ে রেখেছিল জিনেদিন জিদানের দল। মঙ্গলবার দ্বিতীয় লেগ জিতে সেরে নিল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার আনুষ্ঠানিকতাও। সেইসঙ্গে প্রমাণ হল রিয়াল মাদ্রিদ কেন টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন! আসলে দুর্দান্ত খেলেই ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার মুকুট পড়ে জিদানের শিষ্যরা।

এদিনও ম্যাচের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গোলশূন্য ড্রয়ে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সিআর সেভেনের গোলেই প্রথম এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। লুকাস ভাজকুয়েজের ক্রস থেকে পাওয়া বলটাকে দারুণভাবে জালে জড়ান পিএসজির।

এই গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকেও নিয়ে যান আরও একটু ওপরে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা নয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০০৩ সালে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন রুদ ফন নিস্তেলরয়।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ভেরাত্তির। তাতেই যেন কপাল পুড়ে পিএসজির। তবে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও হাল ছাড়েনি স্বাগতিকরা। বরং ৭১ মিনিটে দারুণ এক গোল করে পিএসজিকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার এডিনসন কাভানি। কিন্তু ম্যাচের ৮০ মিনিটে কেসেমিরো গোল করলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।

সেইসঙ্গে পার্ক ডি প্রিন্সেসে পিএসজির জয়রথও থামিয়ে দেয় রিয়াল। ঘরের মাঠে টানা ৫১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর সবধরনের প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম হারল উনাই এমেরির দল। এর আগে ২০১৬ সালের মার্চে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ম্যাচে শেষবারের মতো মোনাকোর কাছে হেরেছিল (২-০) প্যারিস জায়ান্টরা।

গত কয়েক মৌসুম ধরে প্যারিসে রাজত্ব করা পিএসজির লক্ষ্য ছিল এবার ইউরোপের বাজার দখল করা। যে কারণেই দলবদলে নতুন ইতিহাস গড়ে বস্তার বস্তা টাকা খরচ করে নেইমার-এমবাপ্পেদের দলে ভেড়ায় তারা। ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় লেগে খেলতে পারেননি নেইমার। এমবাপ্পেও ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। তাই, ইউরোপ জয়ের অপেক্ষাটাও বেড়ে গেল প্যারিস জায়ান্টদের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দিনের অন্য ম্যাচে লিভারপুলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে এফসি পোর্তো। তবে প্রথম লেগ ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জেতায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলে জার্গেন ক্লপের দল।