ম্যানসিটির নতুন ইতিহাস


উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর প্রথম লেগে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার তারা ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সুইজারল্যান্ডের বাসেলকে। নিজেদের মাঠে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে বড় ব্যবধানে হেরে কার্যত টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়েছে বাসেল।

আর ইউরোপ সেরার এই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। বাসেলকে হারিয়ে নতুন এক ইতিহাসও গড়েছে সিটিজেনরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কোনও দল হিসেবে নক-আউট পর্বে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় পেয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। সেইসঙ্গে ছাড়িয়ে যায় লিভারপুলের রেকর্ডকে। যারা ২০০৬-০৭ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল পিএসভিকে।

যদিও মঙ্গলবার ম্যানসিটির জয়টা আরও বড় ব্যবধানের হবে বলে ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। কেননা ম্যাচের ২৩ মিনিটেই যে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা! ১৪ মিনিটে ইলকে গুন্দোগান প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১৮ মিনিটেই গোলব্যবধান দ্বিগুণ করেন বার্নার্ডো সিলভা। ২৩ মিনিটে সার্জিও অ্যাগুয়েরো গোল করলে ফলাফল দাঁড়ায় বাসেল ০ : ৩ ম্যানসিটি। এর ফলে সিটির জয়টা যে বেশ বড় ব্যবধানেই হতে চলেছে তা নিশ্চিত মনে করেন অনেকেই।

কিন্তু এর পরের সময়টাতে সফরকারীদের দুর্দান্তভাবে রুখে দেয় স্বাগতিক বাসেল। প্রথমার্ধে আর কোনও গোলের দেখা পায়নি গার্দিওলার শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে আবারও গুন্দোগানের শো। ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন তিনি। এরপর আর কোনও গোল করতে না পারলে ৪-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি।

বাসেলের বিপক্ষে দুইবার বল জড়ানোয় ম্যানচেস্টার সিটিতে ২০১৬ সালের জুনে যোগদানের পর থেকে জার্মান তারকা গুন্দোগানের গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। ২০১৮ সালে সার্জিও অ্যাগুয়েরোর করা গোল ১৪টি। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সেজন্য খেলেছেন ১১ ম্যাচ। নতুন বছরে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে অ্যাগুয়েরোর চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি আর কেউ। বাসেলকে হারিয়ে সিটি এদিন সবধরনের প্রতিযোগিতায় ১৬তম অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে। এ মৌসুমে তাদের মোট জয়ের সংখ্যাটা অবশ্য ৪১ ম্যাচ থেকে ৩৪। অথচ গত মৌসুমের পুরোটা সময়ে ম্যানসিটি জিতেছিল মাত্র ৩৩ ম্যাচ!

মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর প্রথম লেগের অন্য ম্যাচে টটেনহ্যাম হটস্পারকে আতিথ্য দিয়েছিল জুভেন্টাস। সেই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।