রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা স্বীকার করল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী


Torture rohingyas 1653447941
 

এই প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নির্যাতনে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করল। ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার সঙ্গে সেনাসদস্যরা জড়িত ছিলেন জানিয়ে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের কার্যালয় থেকে এক ফেসবুক পোস্ট দেওয়া হয়।

১০ জানুয়ারি ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘কয়েকজন গ্রামবাসী এবং সেনাসদস্য স্বীকার করেছেন, তারা ওই দিন ১০ জন বাঙালি সন্ত্রাসীকে (রোহিঙ্গা মুসলমান) হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’ পোস্টে আরও জানানো হয়েছে, রাখাইনে একটি রোহিঙ্গা গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়, ১০ রোহিঙ্গাকে প্রথমে আটক করেন সেনাসদস্যরা। পরে তাদের একটি সমাধিক্ষেত্রে নিয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়।

স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

২০১৭ সালের ২৪ অগাস্ট রাতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে একযোগে ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

আর এই অভিযানের ফলে চার মাসে সাড়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

বরাবরই রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ এক তদন্তে দাবি করা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*